দরখাস্ত নিচ্ছে নাসা মঙ্গলে বাস করার

|

মঙ্গল প্রকল্পে বাস করতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণ করছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বিষয়ক সংস্থা-নাসা।

কারো যদি পৃথিবীতে থাকতে আর ভালো না লাগে, বছর খানেকের জন্য ‌’গ্রহ‌’ বদলের সুযোগ দিচ্ছে নাসা। আবেদন গৃহীত হলে থাকতে পারবেন মঙ্গল গ্রহের আবহাওয়ায়।

অতিমারী আর দুর্যোগে পৃথিবীজুড়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন অনেকেই। ফলে এবার পৃথিবী ছেড়ে পালানোর ব্যবস্থা করে দিচ্ছে নাসা। তাও আবার পুরো এক বছরের জন্য। তবে নাসা এখনই এই গ্রহ ছেড়ে ৩ কোটি ৪০ লাখ মাইল পাড়ি দিতে প্রস্তুত, এমনটি ভাববেন না। পৃথিবীর বুকেই তৈরি করা রয়েছে একটি বিকল্প ঠিকানা, যার আবহাওয়া ঠিক মঙ্গলের মতো। হিউস্টনে জনসন স্পেস সেন্টারে ১ হাজার ৭০০ বর্গফুট এলাকাজুড়ে লালগ্রহের মতো আস্তানা বানিয়েছে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মার্স ডিউন আলফা’ (Mars Dune Alpha)। সেখানেই বছরখানেকের জন্য ঘুরে আসার সুযোগ মিলছে। তবে তার জন্য দরখাস্ত করতে হবে। গত শুক্রবার (৬ আগস্ট) থেকে অনলাইনে সেই দরখাস্ত নিতে শুরু করেছে নাসা। তবে এই আস্তানায় সাকুল্যে চারজনের বেশি থাকা যাবে না।

কিন্তু হঠাত্‍ এই আশ্চর্য আয়োজন কেন? বহুদিন ধরেই মঙ্গলগ্রহে প্রাণের অস্বিত্বের সন্ধান করছে গবেষণা সংস্থা। লালগ্রহে মানুষ বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নাসা জানিয়েছে, আর কয়েক বছর পরে হয়ত মঙ্গলে মানবসভ্যতার দ্বিতীয় উপনিবেশ গড়ে তোলার জন্য পরিবেশ তৈরি হয়ে যাবে। আর তারই ট্রায়াল হিসেবে এই প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে হিউস্টনে।

মঙ্গলে গিয়ে অনেক দিন কাটানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে মার্স ডিউন আলফা প্রকল্পে। মঙ্গলে কিভাবে চাষবাস করা হবে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে এখানে। দেখা হবে মঙ্গলের পরিবেশে থাকতে গিয়ে সেখানকার বাসিন্দাদের মানসিক ও শারীরিক অবস্থা কেমন থাকছে।

নাসার তরফ থেকে আরও জানানো হয়েছে, আপাতত শুধু আমেরিকার নাগরিকদেরই থাকার অধিকার থাকবে এই মার্স ডিউন আলফায়। আবাসিকদের বয়স হতে হবে ৩০ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। তাদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হতে হবে। হতে হবে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। আর তাদের কোনও নেশায় আসক্তি থাকা চলবে না।








Leave a reply