অনলাইনে আয়ের সেরা উপায় আগস্ট ২০২১

|

ইন্টারনেট মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে। মানুষ এখন অনলাইনে অর্থ আয়ের জন্য নানা কৌশল প্রয়োগ করছে। অনলাইনে আয়ের নানা পথও তৈরি হয়েছে। তবে অনলাইনে কাজ করে আয় করতে গেলে কোন প্ল্যাটফর্ম ধরে এগোচ্ছেন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

আপনি নিশ্চয় ২০২০ সালে এসে অনলাইনে ইনকাম করার নিশ্চিত উপায় খুজছেন। আবার কেউ কেউ অনলাইনে ইনকাম বাংলাদেশী সাইট থেকে করে সহজে পেমেন্ট পেতে চাইছেন। অনলাইন হতে আয় করার নিশ্চিত কিছু উপায় এবং অনলাইন ইনকাম বিশ্বস্ত সাইট রয়েছে যেগুলো থেকে সহজে অনলাইনে আয় করতে পারবেন।

২০২০ সালে অনলাইনে আয় করার জন্য শুধুমাত্র আপনার মেধা, শ্রম ও সময়ের প্রয়োজন। আপনি এই তিনটি জিনিস সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে এখনো অবধি ঘরে বসে অনলাইন হতে সহজে টাকা আয় করতে পারবেন। আপনি হয়ত বিষয়টি বিশ্বাস করতে চাইছেন না! কোন সমস্যা নেই। আমি আপনাকে উদাহরনের মাধ্যমে দেখিয়ে দেব কিভাবে আপনি ঘরে বসে অনলাইনে আয় করবেন?
 
আপনি একজন ছাত্র, গৃহিনী কিংবা চাকরিজীবী যাই হয়ে থাকেন না কেন, আপনার লেখা-পড়া বা কাজের ফাঁকে কিংবা চাকরির পাশাপাশি অবসর সময়ে ২/৩ ঘন্টা ব্যয় করে মাসে মোটামুটি ভালোমানের স্মার্ট এমাউন্ট অনলাইনে আয় করতে সক্ষম হবেন। এ ক্ষেত্রে আপনার চাকরি কিংবা লেখা পড়ায় কোন ধরনের ব্যাঘাত ঘটবে না। আপনার মূল প্রফেশন ঠিক রেখেও সামান্য অল্প সময় ব্যয় করে অনলাইন হতে বাড়তি কিছু টাকা আয় করে নিতে পারবেন।

আপনি একটি বিষয় ঠান্ডা মস্তিস্কে ভেবে দেখুন, আরো অন্য দশজন স্কুল কিংবা কলেজ পড়ুয়া ছাত্রদের মত আপনিও আপনার মূলবান সময়টুকু ফেইসবুক, টুইটার ও ইউটিউবে ফানি ভিডিও দেখা সহ বিভিন্ন রকম সামাজিক যোগাযোগের সাইটে ব্যয় করছেন। কখনো কখনো আমার নিজের প্রতিও খুব দুঃখ হয় কেন আমি বিগত বৎসরগুলোতে এ সকল সাইটে অযথা সময় ব্যয় করলাম। আমি নিজে প্রায় দুই বৎসর ফেইসবুক, টুইটার এবং বিভিন্ন অনলাইন গেম খেলে সময় পার করেছি। এখন আমি ভাবি কেন আমি এ সময়টুকো ঐ সমস্ত সামাজিক যোগাযোগের সাইটে ব্যয় না করে ব্লগিং করে কাটালাম না।

এ রকম আমার আপনার অনেক বন্ধু বান্ধব আছে যারা ঠিক একইভাবে বিভিন্ন সামজিক যোগাযোগের সাইটে চ্যাট করে প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা সময় পার করে দিচ্ছে। আপনি যদি হিসাব করে দেখেন, আপনি প্রতিদিন গড়ে কতটুকু সময় ইন্টারনেট ব্যবহার করে পার করছেন, তাহলে বেশীরভাগ লোকই বলবে ২-৩ ঘন্টা। তাহলে আপনি কি ভাবছেন এ সংখ্যা বছরে কতয় গিয়ে দাড়াচ্ছে। বছরে অন্তত ১০০০-১২০০ ঘন্টা পার করছেন ইন্টারনেটে বিভিন্ন সমাজিক যোগাযোগ এর সাইটে চ্যাট করে। কিন্তু একবারও কি আপনি নিজের কাছে প্রশ্ন করেছেন যে, আপনার এ মূল্যবান সময়গুলো ব্যয় করে আপনি কি পেয়েছেন? আমিত নির্ধিদ্বায় বলতে পারি এর শুরু থেকে শেষ অব্দি শুধু শূন্য আর শূন্য।

আপনার মূ্ল্যবান সময়ের সামান্য সময় ব্যয় করে যদি কিছু টাকা পয়সা অনলাইনে আয় করে নিজের প্রয়োজন মিটাতে পারেন, তাহলে অন্যের কাছ থেকে ধার কর্জ করে চলার চেয়ে খারাপ কি? ইন্টারনেট জগৎটা Facebook, Social Media and Gaming এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আপনার সামান্য ইচ্ছা শক্তির বলে আপনি অনলাইনে টাকা ইনকাম করতে পারেন। এই জন্য আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো কিভাবে ছাত্র-ছাত্রী, গৃহিনী এবং কিশোর বয়সি আধুনিক জেনারেশনরা অনলাইনে টাকা আয় করে নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজন মিটাতে পারেন।
কেন ছাত্রদের টাকা প্রয়োজন?

স্কুল কিংবা কলেজ সকল স্তরের ছাত্র-ছাত্রীদের কিছু Extra Pocket Money এর প্রয়োজন হয়। এই অল্প টাকা দিয়েই সে তার নিত্য প্রয়োজনীয় ছোট খাটো সখ এবং প্রয়োজন মিটিয়ে নিতে পারে। তাছাড়াও স্বাভাবিকভাবে এখনকার জেনারেশনের ছাত্রদের Smartphone, Gaming consoles, Cool cloths ইত্যাদি লাগেই। এ গুলো তাদের চলার পথকে আর Smart এবং সুগম করে।

এই ছোট খাটো ব্যাপারগুলো অনেক সময় আপনার ফ্যামেলির কাছ থেকে চেয়ে নিতে পারবেন না। এই জন্য আপনি যদি অল্প সময় ব্যয় করে অনলাইন হতে কিছু টাকা আয় করে নিজের প্রয়োজন নিজেই মিটাতে পারেন, তাহলে নিজেকে যেমন আত্ম নির্ভরশীল মনে হবে তেমনি প্রয়োজন গুলোও মিটে যাবে।

তাছাড়া অনেক গৃহিনী আছেন যাদের বাসায় বসে থাকা ছাড়া কোন কাজই থাকে না। তারা বেশীরভাগ সময় ব্যয় করে ফেইসবুকে বন্ধুদের সাথে চ্যাট করে। আপনি অযথা এই সময় ব্যয় না করে যদি নিজের কিছু প্রয়োজন মিঠাতে পারেন বা অল্প আয় করতে পারেন তাহলে দুষের কি? নিচে আমি অনলাইন হতে আয় করা সহজ কিছু কৌশল দেখাবো, যেখান থেকে আপনিও ইচ্ছা করলে কিছু পয়সা উপার্জন করে নিতে পারবেন।

অনলাইনে আয়

আপনি ঘরে বসে মোবাইল দিয়ে অনলাইনে আয় করতে পারবেন কি না, সে বিষয়টি আমি শুরুতে ক্লিয়ার করে নিচ্ছি। কারণ অধিকাংশ লোকের কাছে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ না থাকার কারনে অনলাইনে কাজ করতে চায় না। তারা মনেকরে কম্পিউটার ছাড়া মোবাইল দিয়ে অনলাইন হতে আয় করার সম্ভব নয়। কিন্তু আপনি হয়ত জানেন না যে, কম্পিউটার ছাড়াও শুধুমাত্র মোবাইল দিয়ে বিভিন্ন উপায়ে ঘরে বসে অনলাইনে সহজে আয় করা যায়। আপনার নিকট যদি একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল থাকে তাহলে আপনি সেই স্মার্টফোন দিয়ে অনলাইন হতে মাসে কিছু টাকা আয় করে নিতে পারবেন।

অনলাইন কাজ শুরু করার পূর্বে অনেকের মনে আরেকটি প্রশ্ন জাগে যে, আমি অনলাইনে আয় করার পর সেই টাকা কিভাবে হাতে পাব? অনলাইনে আয়ের টাকা কিভাবে হাতে পাবেন সেই বিষয় নিয়ে আপনাকে চিন্ত করতে হবে না। অনলাইনের যে কোন প্লাটফর্ম হতে আপনি টাকা ইনকাম করুন না কেন সেই টাকা আপনার হাতে পৌছতে কোন ধরনের সমস্যা হবে না।

বর্তমানে প্রত্যেকটি অনলাইন প্লাটফর্ম তাদের গ্রাহকের উপার্জিত টাকা বিশ্বস্ততার সহিত হাতে পৌছে দেয়। এ ক্ষেত্রে আপনার অনলাইনে আয়ের টাকা কেবলমাত্র বিকাশের মাধ্যমে পেতে হবে এমনটা চিন্তা করা উচিত নয়। অনলাইনে সকল বড় প্লাটফর্মগুলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা হাতে পৌছে দেয়। সেই জন্য অনলাইন হতে আয়ের টাকা খুব সহজে আপনার যেকোন ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে নিতে পারবেন।

আমরা আজ অনলাইনে আয়ের যে পদ্ধতিগুলো শেয়ার করব সেগুলো হতে আয়ের টাকা আপনি বিকাশ পেমেন্টের মাধ্যমে নিতে পারবেন না। তবে কিছু কিছু উপায় আছে যেগুলো কন্টাকের মাধ্যমে ব্যাংকে না নিয়ে বিকাশ পেমেন্ট বা সরাসরি নিতে পারবেন। আসলে অনলাইনের আর্ন্তজাতিক কোন প্লাটফর্ম এখনো পর্যন্ত আয়ের টাকা বিকাশের মাধ্যমে পেমেন্ট করছে না। সবগুলো ভালোমানের কোম্পানি তাদের নিকট হতে আয়ের টাকা ব্যাংক ও পেপল একাউন্ট এর মাধ্যমে পরিশোদ করে।

আমার অনেক পরিচিত লোক রয়েছে যারা অনলাইন হতে প্রতি মাসে ভালোমানের টাকা ইনকাম করছে। আবার এমনো কিছু পরিচিত ব্যক্তি আছে যারা অনলাইনে ইনকাম করে তাদের পরিবারেরে ভরণ পোষণ সহ বিলাসিতার জীবন যাপন করছে। আমি নিজেও ২০১৫ সাল হতে অদ্যাবধি চাকরির পাশাপাশি প্রতি মাসে কিছু টাকা অনলাইনে ইনকাম করে যাচ্ছি। আশাকরি আপনার সকলের আন্তরিকতা ও ভালবাসা পেলে ভবিষ্যতে অনলাইনে ইনকামের পরিমানটা আরো বৃদ্ধি করতে পারব।

অনলাইন ইনকাম সাইট

এখন আমরা আপনাদের সাথে অনলাইনে আয় করার কয়েকটি নিশ্চিত উপায় শেয়ার করার পাশাপাশি কয়েকটি জনপ্রিয় অনলাইন ইনকাম সাইট শেয়ার করব। আশাকরি আপনি ধৈর্য্যধারণ করে ২/৪ মাস কাজ করলে আপনিও মাসে মাসে অনলাইনে টাকা আয় করতে সক্ষম হবেন। অনলাইনে কাজ শুরুর দিকে আপনার কাছে বিষয়টি কঠিন মনে হবে। কিন্তু ধিরে ধিরে আপনার কাছে সহজে হয়ে উঠবে। আপনি একটি জিনিস মনে রাখবেন, কেউ একদিনে বড় হয়নি, বড় হওয়ার জন্য সময় দিতে হয় এবং ধৈর্য্য ধরে কাজ চালিয়ে যেতে হয়।

YouTube হতে টাকা আয়

অনলাইনে আয় করার সবচেয়ে সহজ পথ হচ্ছে YouTube. এখান থেকে যে কোন বয়সের লোক খুবই সহজে টাকা ইনকাম করতে পারেন। ইন্টারনেট বিশ্বের জনপ্রিয় ১০ ওয়েবসাইটের মধ্যে YouTube হচ্ছে একটি। আপনি ইচ্ছে করলেই এখান থেকে কম সময় ব্যয় করে অল্প অভীজ্ঞতা নিয়ে মাসে ভালো মানের টাকা অনলাইনে ইনকাম করতে পারেন। এই জন্য আপনাকে যেটি করতে হবে- প্রথমে বিভিন্ন ভাল মানের ভিডিও YouTube এ আপলোড করতে হবে। ভিডিও তৈরি করার জন্য আপনার মোবাইল ফোনকে ব্যবহার করতে পারেন।

আপনি যদি ভ্রমন প্রিয় লোক হন তাহলে বিভিন্ন সুন্দর সুন্দর প্রকৃতিক দৃশ্যগুলো আপনার মোবাইলের ক্যামেরায় ফ্রেমবন্দী করেও এ কাজটি করতে পারেন। অথবা আপনি যে বিষয় ভালভাবে জানেন সে বিষয়ে বিভিন্ন ভিডিও টেউটরিয়াল তৈরী করেও কাজটি করতে পারেন। যারা গৃহিনী রয়েছেন তারা চাইলে বিভিন্ন রান্নার রেসিপি টিপস ও সাজগোজের করার ভিডিও তৈরি করে নিতে পারেন।

এখনকার মোবাইল ফোনে অনেক ভালোমানের ভিডিও রেকর্ডিং করা যায় বিধায় আপনি চাইলে আপনার মোবাইল দিয়ে ক্যামেরার সামনে বসে ভিডিও বানাতে পারেন অথবা ক্যামেরার সামনে আসতে না চাইলে মোবাইল দিয়ে স্ক্রিন ভিডিও রেকর্ড করে বিভিন্ন ধরনের টিউটরিয়াল ভিডিও তৈরি করতে পারেন।  কিন্তু মনে রাখবেন কারও কোন নকল ভিডিও কপি করে এটি করা যাবে না। এতে করে হিতের বিপরীত হতে পারে। 

ব্লগিং করে বা ব্লগে আর্টিকেল লিখে

আপনি গুগল ব্লগারে কিংবা ওয়ার্ডপ্রেসে বিনা মূল্যে একটি ব্লগ তৈরী করে নিতে পারেন। গুগল ব্লগার সম্পূর্ণ ফ্রিতে একটি ব্লগ তৈরি করার সুযোগ দিচ্ছে। তাছাড়া গুগল ব্লগার দিয়ে ব্লগ তৈরি করা খুব সহজ হওয়ায় আপনি চাইলে আপনার মোবাইল দিয়ে মাত্র ৫ মিনিটে নিজের একটি ব্লগ তৈরি করে নিতে পারেন। গুগল ব্লগার দিয়ে ব্লগ তৈরি করার বিষয়ে আমাদের ব্লগে একটি বিস্তারিত পোস্ট রয়েছে। আপনার নিজের একটি ব্লগ তৈরি করার জন্য নিচের লিংক থেকে আমাদের ব্লগে পোস্ট দেখে নিতে পারেন।

তবে একটি বিষয় মরে রাখবেন ব্লগ তৈরী করে থেমে থাকলে হবে না। আপনার যে বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান আছে, আপনি সে বিষয় নিয়ে লিখে যাবেন। এ ক্ষেত্রে হয়তো আপনি প্রথম ২-৩ মাস একটু কষ্ট করতে হবে। তাই বলে আপনি নিরাশ হয়ে থেমে থাকবেন না। আপনি প্রতিদিন নিত্য নতুন আর্টিকেল লিখতে থাকেন। আপনার বিষয়টি যদি ইউনিক এবং জ্ঞানগর্ভপূর্ণ হয় তাহলে ভিজিটর অবশ্যই আপনার ব্লগে আসবে। এ ক্ষেত্রে সফলতা পেতে আপনাকে বেশী দিন অপেক্ষা করতে হবে না। আপনি নিজে নিজেই টাকা উপার্জনের পথ সুঘম করে নিতে পারবেন।

Freelancing-একজন লেখক হয়ে

অনলাইনে আয়ের ক্ষেত্রে বর্তমানে Freelancing একটি জনপ্রিয় প্লাটফর্ম। Freelancing করে বর্তমানে বাংলাদেশের হাজার হাজার লোক ঘরে বসে অনলাইন হতে টাকা আয় করছে। তাছাড়া বর্তমান সরকার দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকদের কাজে লাগানোর জন্য Freelancing বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর ব্যবস্থা চালু করেছে। অনেকে সেই সমস্ত সরকারী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান হতে প্রশিক্ষণ গ্রহন করে Freelancing এর মাধ্যমে মাসে লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা ইনকাম করে স্বাবলম্বি হচ্ছে।

Freelancing হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতি যেখানে আপনি আপনার লেখা বা আর্টিকেল শেয়ার করে অনলাইন হতে টাকা ইনকাম করে নিতে পারবেন। আপনি যদি একজন ভাল লেখক হন কিংবা যে কোন বিষয়ে ভাল জ্ঞান রাখেন, তাহলে সে বিষয়ে ভালোমানের আর্টিকেল লিখে Freelancing এর কাজ করতে পারবেন। আপনার লেখার মান যদি ভাল হয় তাহলে Freelancing এ আপনার লেখার মূল্য অর্থাৎ টাকা ইনকামের পরিমান দিন দিন বাড়তে থাকবে। এখান থেকে মাসে লাখ টাকা উপার্জন করে এমন লোকও আছে। এখানে যার যার মেধা অনুসারে তার প্রতিফলন ঘটাতে পারে।

Adsense থেকে টাকা আয়

Adsense হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপনের (Advertisement) Program. এটি গুগল কর্তৃপক্ষ সয়ং নিজে পরিচালনা করছে। আপনি যদি আপনার ব্লগ বা ইউটিউব চ্যানেলকে ভালোমানের Platform এ নিয়ে যেতে পারেন এবং ব্লগে বা ইউটিউব চ্যানেলে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর থাকে তাহলে Adsense থেকে আপনি হাজার হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

এ পদ্ধতীতে আপনার ব্লগে কিংবা ইউটিউব ভিডিওতে Adsense এর বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে ক্লিক প্রতি ডলার আয় করতে পারবেন। অনেকে বলে Adsense Approve করাটা অনেক কঠিন কাজ। কিন্তু আমি বলছি মোটেও কঠিন কাজ নয়। আপনি যদি মানসম্মত ২৫-৩০ টি ইউনিক কনটেন্ট লিখতে পারেন তাহলে নিঃসন্দেহে Adsense Approve হয়ে যাবে। এখান থেকে আপনি দীর্ঘ দিন যাবত টাকা ইনকাম করে যেতে পারবেন।

প্রশ্ন উত্তরের মাধ্যমে (Ask And You Answer)

আপনি যদি বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ হয়ে থাকেন, যেমন ধরুন – Math, English, Physics, Biology, Humanities ইত্যাদি। তাহলে আপনি প্রশ্ন উত্তর প্রদানের মাধ্যমে ইন্টারনেটে অন্যের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে দিতে পারেন। আপনি যদি তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে দিতে পারেন, তাহলে ইন্টারনেটে অনেক সাইট আছে যেগুলোতে জয়েন করার জন্য আপনার সাথে যোগাযোগ করা হবে। তাদের সাইটে জয়েন করার মাধ্যমে ঐ কোম্পানী হতে আপনি ভাল মানের টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে আপনি বেশ চালাক এবং বুদ্ধিমান হতে হবে। আপনি বুঝতেই পারছেন আপনার চালাকি এবং মেধাকে কাজে লাগিয়ে এখান থেকে টাকা আয় করতে হবে।

EBAY and AMAZON এ Products বিক্রি

আপনারা হয়তো জানেন যে, ইন্টারনেট এর মাধ্যমে পন্য কেনা কাটার জন্য জনপ্রিয় ওয়েবসাইট হচ্ছে Ebay and Amazon. এখানে লোকজন তাদের বিভিন্ন ধরনের Products বিক্রি করার জন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকেন। আপনার পন্যটি যদি ক্রেতার কাছে ভাল মনে হয়, তাহলে পন্যটি কেনার জন্য ক্রেতারা আপনার সাথে যোগাযোগ করবে। আপনি যদি আপনার Products বিক্রি করে একজন ভালোমানের বিক্রেতা হতে পারেন, তাহলে এখান থেকে কমদামে বিভিন্ন জিনিস ক্রয় করে ভালো দামে বিক্রয় করে লাভবান হতে পারেন। তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য আপনাকে আগে একজন ভাল মানের বিক্রেতা হিসেবে প্রমান করতে হবে।

গ্রাফিকস ডিজাইন

অনলাইনে গ্রাফিকস ডিজাইনের চাহিদা প্রচুর পরিমানে রয়েছে। অনলাইনে ঘরে বসে আয়ের ক্ষেত্রে গ্রাফিকস ডিজাইন একটি ভালো উপায়। যারা এই কাজে দক্ষ, তারা বিভিন্ন ডিজাইন বিষিয়ক অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে তাদের নিজেস্ব ডিজাইন দিয়ে রাখেন। সেখান থেকে তাদের ডিজাইনগুলো ক্রেতাদের পছন্দ হলে কিনে নেয়। এ ধরনের একটি পণ্য অনেকবার বিক্রি হয়, অর্থাৎ একটি ভালো নকশা থেকেই দীর্ঘদিন পর্যন্ত আয় হতে থাকে। অনলাইনে এ ধরনের অনেক ওয়েবসাইটে গ্রাফিকসের কাজ বিক্রি করা যায়। গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার কাজটি আপনি প্রাথমিকভাবে এডোবি ফটোশপ থেকে শুরু করতে পারেন।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম

জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট এখন আর শুধু বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নয়। এগুলোকে কাজে লাগিয়ে আপনি সহজে অনলাইন হতে আয় করতে পারবেন। আপনার ৩-৫ টি ফেসবুক পেজে প্রচুর পরিমানে ফলোয়ার থাকলে আপনি ঘরে বসে খুব সহজে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন কোম্পানির নিকট থেকে ফেসবুকে টাকা আয় করতে পারবেন। কারণ যেকোন কোম্পানির পন্যের প্রচারের জন্য এখন ফেসবুক ও টুইটার খুবই জনপ্রিয় মাধ্যম। এ ক্ষেত্রে আপনার জনপ্রিয় কোন সোশ্যাল মিডিয়া থাকলে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন কোম্পানি আপনার সাথে যোগাযোগ করবেই। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফ্যান-ফলোয়ার তৈরিসহ তাঁদের ধরে রাখতে প্রচুর ধৈর্য ও প্রাসঙ্গিক বিষয় হওয়া জরুরি।

ডাটা এন্ট্রি

অনলাইনে সহজ কাজগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ডাটা এন্ট্রি। এ ক্ষেত্রে অবশ্য আয় খুব কম। তবে এ ধরনের কাজ অটোমেশনের কারণে এখন খুব কম পাওয়া যায়। যাদের কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও দ্রুতগতির টাইপিং দক্ষতা আছে, তারা এ ধরনের কাজ করতে পারবেন। অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সিং সাইটে এ ধরনের কাজ রয়েছে। তবে যাদের কোনো কাজে দক্ষতা থাকে, তারা সহজে কাজ পান এবং দ্রুত আয় বাড়াতে পারেন।

পিটিসি

অনলাইনে অনেক ওয়েবসাইট আছে যেগুলোর বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে টাকা দেওয়া হয়। এ ধরনের সাইটকে পিটিসি সাইট বলে। প্রকল্প শুরুর আগে নিবন্ধন করতে হয়। তবে মনে রাখতে হবে পিটিসি সাইটগুলো বেশির ভাগ ভুয়া হয়। তাই কাজের আগে নিশ্চিত হতে হবে সেটি প্রকৃত সাইট কি না। অনেক সময় বন্ধুত্বের রেফারেন্স দিয়ে আয় করতে পারেন।

টাকা আয় করার অ্যাপস

আমরা প্রত্যেক দিন ঘন্টার পর ঘন্টা মোবাইলের মধ্যদিয়ে টাইম পাস করি এবং মার্কেটে অনেক কোম্পানি আছে তারা এই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি ইউজারের কাছে বিভিন্ন বিজনেস এর মাধ্যমে মোটা টাকার প্রফিট কামিয়ে নিচ্ছে।সেইরকম কিছু কোম্পনি বা এপপ্স আমাদেরও কিছু প্রফিট কামানোর সুযোগ দেয়। আমরা আজ সেই বিষয় গুলি নিয়ে জানবো। 

আজ আমরা মোবাইল শুধু কল বা এসএমএস পাঠাবার জন্য ব্যবহার করিনা।মোবাইল থেকে বিভিন্ন জিনিস সপিং বা কেনাকাটা করে থাকি, সিনেমা/সিরিয়াল দেখি,গান শুনি,বন্ধুবান্ধব সাথে চ্যাট করি, খবর শুনি,কমেডি ভিডিও দেখি আবার A to Z  ইনফরমেশন বা তথ্য,নলেজ জ্ঞান,শিক্ষা সবকিছু এখন মোবাইল মাধ্যমে পেয়ে যায় ।

বর্তমান ডিজিটাল ইন্টারনেটের এই বৃহৎ ইউসার সংখ্যার ফলে বিভিন্ন কোম্পানি নানান ভাবে ব্যবসা শুরু করে প্রফিট করার চেষ্টা করছে। 

এরমধ্যে কিছু কোম্পানি মোবাইল অ্যাপস লঞ্চ করে পাবলিক এর সঙ্গে পার্টনারশীপ করে ব্যবসা করে নিচ্ছে,ফলে সাধারণ যুবক যুবতীদের কিচু ইনকাম করার রাস্তা বেড়িয়েছে।

আমি নিচে সেই সব কিছু অ্যাপস নিয়ে কথা বলবো যেখানে আপনি তাদের পার্টনারশিপে এ যোগ দিয়ে কিছু এক্সট্রা প্রফিট আর্নিং করতে পারবেন।

১০টি সেরা টাকা আয় করার apps (Android Apps)

আমি এই পোস্টের মধ্যে যে apps গুলি সাজেস্ট করেছি সেগুলো থেকে আপনি ঘরেবসেই আর্নিং করতে পারবেন।তাছাড়া এই app গুলির দ্বারা যে কোন ব্যাক্তি,সে একজন মহিলা হোক,স্টুডেন্ট হোক বা বয়স্ক মানুষ হোক না কেন যারা কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহার করতে জানেন না,

তিনারা সারা দিনে মধ্যে কিছু সময় দিয়ে এখান প্লাটফ্রম থেকে একটা ভালো রকম পয়সা আর্নিং করতে পারবেন।

তাহলে চলুন দেরি না করে শুরু করা যাক।

Meesho

মিশো হচ্ছে একটি রিসেলিং অ্যাপ,এই অ্যাপের মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানির নানান প্রোডাক্ট,যেমন জামাকাপড়,জুতো,ব্যাগ আরো বিভিন্ন প্রোডাক্ট আছে।

এই প্রোডাক্ট নিজের সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টে ,বন্ধুবান্ধব দেড় সঙ্গে শেয়ার করতে পারবেন জেক প্রমোট করা বলে,সেখান থেকে কেউ সেই প্রোডাক্ট buy করলে তার থেকে আয় হয়। 

আপনি মিশোর কোনো একটি প্রোডাক্ট যেটা ১৫০ টাকা দাম সেটা ২০০ টাকাই বিক্রি করে নিজের প্রফিট বের করে নিতে পারবেন। এখানে আপনাকে প্রোডাক্ট শিপ বা বাড়ি পৌছিয়ে দিতে হবে না।

আপনি যে প্রাইস ট্যাগ বেঁধে দিবেন সেটাই ক্রেতা দেখতে পাবে এবং মিশো কে সেটাই ক্রেতা পেমেন্ট করবে পারে মিশো আপনার লাভ একাউন্ট এ দিয়ে দেবে।

ঘরে বসে একটি মোবাইল এপপ্স মাধ্যমে আপনি হাজার হাজার টাকা যায় করে নিতে পারেন। নিচে এর লিংক দেওয়া হলো –

Swagbucks

এই অ্যাপটি ইনস্টল করার পর আপনাকে বিভিন্ন রকম অ্যাক্টিভিটি করতে বলবে এবং সেই অ্যাক্টিভিটি গুলো কমপ্লিট করার পরিবর্তে আপনি কিছু আর্নিং করবেন।

সাধারনত এখানে আপনাকে সার্ভে কমপ্লিট করতে হয়, তবে এই সাইট টি অ্যাপ ছাড়া ওয়েবসাইট ভিসিট করে একই কাজ করতে পারবেন।

যে একটিভিটি গুলো আপনাকে এই অ্যাপস থেকে করতে হবে সেগুলো হচ্ছে সার্ভে কমপ্লিট করা,কোশ্চেন অ্যানসার করা,গেমস খেলা এবং ভিডিও ওয়াচ করা।

আপনি যে পয়েন্ট আর্নিং করবেন সেগুলো আপনি গিফট কার্ডের মাধ্যমে অ্যামাজন,পেপাল এবং আরো অন্যান্য জায়গায় সেই পয়সাকে ব্যবহার করতে পারবেন।

Cointiply (বেস্ট টাকা আয় করার apps)

Cointiply একটি মাইক্রো নিচ ওয়েবসাইট যেখানে আপনি ফ্রিতে বিটকয়েন আর্নিং করতে পারবেন।

এখানে আপনি খুব ছোট ছোট টাক্স কমপ্লিট করার পরিবর্তে কিছু বিটকয়েন পাবেন,যেমন গেম খেলা, ইনস্টল অ্যাপ,সার্ভে কমপ্লিট করে, এড ভিউ করে এবং আরো অনেক ছোট ছোট টাস্ক কমপ্লিট করার পরিবর্তে বিটকয়েন দেয়া হয়.

পরবর্তী ক্ষেত্রে এই বিটকয়েন গুলি অনেক সাইট আছে যেখান থেকে ক্যাশ এ কনভার্ট করে নিতে পারবেন।

Perk app

পার্ক একটা খুবি জনপ্রিয় প্লাটফর্ম যেখানে এই অ্যাপস এর মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন টাক্স কমপ্লিট করার পরিবর্তে রিওয়ার্ড পাবেন।

এখানে আপনি বিভিন্ন ধরনের ভিডিও watch করে,গেম খেলে,ওয়েবসাইট ভিজিট করে, সার্চ করে এবং অন্যান্য বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটি করা পরিবর্তে আর্নিং করতে পারবেন।পার্ক এর সব থেকে ভালো গুন্ হচ্ছে  Perk.tv এখানে আপনি “ভিডিও দেখে টাকা ইনকাম “ করতে পারবেন। 

Foap – sell your photos

বন্ধুগণ এখানে একটি ফটো অ্যাপস এর কথা বলব যেখানে আপনি প্রফেশনাল ভাবে ফটো তুলে সেল করতে পারবেন।

পৃথিবীর বড় বড় অ্যাড সংস্থা, ব্র্যান্ড এবং মার্কেটিং এজেন্সি এখান থেকে ফটো ক্রয় করে। 

আপনি এখানে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে রেজিস্টার করুন,এবং সেখানে আপনার ছবিগুলো আপলোড করেদিন।
আপনার ছবি ভাল রেটিং পেলে তার ভাইরাল হওয়ার চান্স আছে।এখানে একটা একটা ছবি  থেকে 5-100 ডলার পর্যন্ত পেতে পারেন।

অবশ্য এই পেমেন্ট নিতে হলে আপনার একটি পেপাল একাউন্ট থাকা দরকার।

Google’s Opinion Rewards

জি হাঁ ,ঠিক শুনেছেন আপনি যে কোম্পানির অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ব্যবহার করছেন সেই কোম্পানির এমন একটি অ্যাপস আছে যার মাধ্যমে কিছু reward points কালেকশন করতে পারবেন।

এই reward points দ্বারা আপনি বিভিন্ন গুগলের সার্ভিস ক্রয় করতে পারবেন যে সার্ভিস গুলো ব্যবহার করতে হলে pay করতে হয় ,যেমন- প্রিমিয়াম অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস buy,মিউজিক, মুভি এই ধরনের প্রিমিয়াম আইটেম গুগল থেকে ওই reward points দ্বারা purchase করতে পারবেন।

এই অ্যাপসটি ইন্সটল করার পর আপনি কুড়ি থেকে ত্রিশ টি surveys প্রত্যেক সপ্তাহে কমপ্লিট করুন এবং reward points কালেক্ট করুন।

এখানে আপনি খুব অল্প পরিমাণে টাকা reward পেতে পারেন, তবে একটা কথা মনে রাখবেন এটা গুগোল নিজে সার্ভে করাচ্ছে এবং গুগলকে অবশ্যই ট্রাস্ট করা যায়।

Picxele

স্টুডেন্টদের জন্য আরেকটা সুন্দর অ্যাপ্লিকেশন হচ্ছে Picxele.

এই এপপ্স এর মাধ্যমে অনেক কিছু করা যায়। আপনি এখান থেকে বিভিন্ন পার্ট টাইম ইন্টারশিপ,Brand Campaigns,Influencer marketing সঙ্গে কাজ করে আর্নিং করতে পারবেন।

এছাড়া এখানে বিভিন্ন টাস্ক করে যেমন ফেভারিট স্টোর থেকে ক্রয় করে ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়।পেমেন্ট আপনি নিজের ব্যাঙ্ক বা paytm এ redeem করে নিতে পারবেন।








Leave a reply