মাশরাফির আবেগঘন পোস্ট, নেইমারের কান্না

|

ম্যাচ শেষে মেসি যখন ট্রফি হাতে নেওয়ার অপেক্ষায় উল্লাসে ব্যস্ত, তখন অঝোরে কাঁদলেন নেইমার। কোপা আমেরিকার ট্রফি জিততে না পারার কান্না। যদিও প্রতিপক্ষের বন্ধুকে কান্নারত অবস্থায় দেখে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে এলেন মেসি। জড়িয়ে ধরলেন। না পাওয়ার আক্ষেপের কষ্ট তো মেসিরও দীর্ঘদিনের। হয়তো বুকে জড়িয়ে সেটাই মনে করাতে চাইলেন। হয়তো কানে কানে বললেন, এটাই শেষ নয় সুযোগ আসবে আবার।

নেইমারের কান্নায় অনেকের চোখ বেয়েও নামে অশ্রুধারা। ব্রাজিলিয়ান তারকার কান্না ছুঁয়ে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার হৃদয়। রোববার (১১ জুলাই) এক ফেসবুক পোস্টে এমনটিই জানালেন নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রাণভ্রমরা।

কিন্তু তাই বলে এটি ভাবার কারণ নেই যে, মাশরাফি ব্রাজিল সমর্থক। তারকা ক্রিকেটার ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থক। আর্জেন্টিনার ট্রফি জয় ম্যাশকে তৃপ্তি দিয়েছে। কিন্তু নেইমারের কান্নায় খারাপ লেগেছে তার। আসলে খেলাটাই এমন।
পোস্টে মাশরাফি আরও লিখেছেন, ‘ফুটবলে আর্জেন্টিনার সমর্থন করি ডিয়েগোর জন্য, পরে ও (ম্যারাডোনা) যাওয়ার পর আরও অনেকেই এসেছে। শেষমেশ মেসি। কথা হলো কারও না কারও খেলা দেখে মানুষ একটা দলকে সাপোর্ট করা শুরু করে আর একটা পর্যায়ে ওই খেলোয়াড় থেকে দলের প্রাধান্যই বেশি হয়।’

তারপরেও আর্জেন্টিনার এমন জয়ে মাশরাফির অনুভূতিটাই অন্যরকম। তিনি লিখেন, ‘দারুণ এক অনুভুতি হচ্ছে আর্জেন্টিনা জেতায়। সবাই মেসি মেসি করলেও আমার মন পড়ে আছে ওই স্পেশাল ম্যান এর দিকে। বেঁচে থাকলে ওর (ম্যারাডোনা) মতো আনন্দ কেউ পেতো না। উপর থেকে দেখে হয়তো এমনই করছে (কাল্পনিক)। ডিয়েগো ম্যারাডোনা দি ওনলি লাভ ইন ফুটবল। অভিনন্দন আর্জেন্টিন।’

রোববার (১১ জুলাই) অ্যানহেল ডি মারিয়ার করা একমাত্র গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোপা আমেরিকার শিরোপা ঘরে তুলেছে আর্জেন্টিনা। অবসান হয়েছে ২৮ বছরের অপেক্ষার। এতে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে হোঁচট খায় ব্রাজিল।

ম্যাচের প্রথমার্ধের ২২ মিনিটে ডি পলের লং পাস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করে আর্জেন্টিনাকে লিড এনে দেন ডি মারিয়া। প্রথমার্ধে ওই গোল আর শোধ করতে পারেনি ব্রাজিল। ফলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় মেসির দল। আর এই গোলের সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন তিনি। এর আগে প্রায় সব ম্যাচেই বদলি হেসেবে নেমেছিলেন তিনি। তবে ফাইনালে শুরুর একাদশে তাকে নিয়ে আসেন কোচ স্কালোনি। আর তাতেই বাজিমাত।

এদিকে, রিও দে জেনেইরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে ফাইনালের ম্যাচে ফাউলের রেকর্ড হয়েছে। ব্রাজিল করেছে ২২টি, আর আর্জেন্টিনা করেছে ১৯টি ফাউল। ফাউলের এমন ছড়াছড়িতে গতি হারিয়েছে ম্যাচ। কারণ উরুগুয়ান রেফারি এস্তেবান ওস্তোজিচ বারবার বাঁশি দিয়ে ম্যাচ থামিয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচ হারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্রাজিল দলের কোচ তিতে। তাই ম্যাচ শেষে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন রেফারিকে! সেইসঙ্গে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দেরও সমালোচনা করতে ছাড়েননি।

তিতে বলেন, ‘খেলাটাকে অসংখ্যবার থামানো হয়েছে। ফাউল আদায়ের জন্য পুরো সময়টায় দেখা গেল ডাইভিং। আর সেই ফাউলের জন্য যেন অনন্তকাল সময় নিল তারা! খেলাটাকে চালু রাখতে পারেননি রেফারি। মূলত কৌশলই ছিল খেলার গতি ভঙ্গ করা।’








Leave a reply