মূল বিষয়বস্তুতে যান
ট্যাগ বাংলা

কড়া ডায়েট ও নিয়মিত ব্যায়ামের পরেও ওজন কমছে না? আসল কারণ জানালেন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট

কঠোর নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত শারীরিক কসরত করার পরেও অনেকের ওজন আশানুরূপ কমে না, যার পেছনের প্রকৃত কারণ ও চিকিৎসাগত ব্যাখ্যা দিয়েছেন বেঙ্গালুরুর এক হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. লোকেশ এলভি।

জীবনযাপন
কড়া ডায়েট ও নিয়মিত ব্যায়ামের পরেও ওজন কমছে না? আসল কারণ জানালেন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট

ওজন কমানোর জন্য কঠোর ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাসে রাশ টানা এবং জিম বা বাড়িতে নিয়মিত শারীরচর্চা করা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পাওয়ার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। দেখা যায়, প্রথম দিকে অল্প কিছু ওজন কমলেও একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর ওজন কমার প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ থমকে যায়। চারপাশের এমন ভূরি ভূরি অভিজ্ঞতার নেপথ্যে চিকিৎসকেরা ডায়েটের বা মেধার খামতি নয়, বরং শরীরের অভ্যন্তরীণ কিছু হরমোনজনিত ও বিপাকীয় (মেটাবলিক) সমস্যাকে দায়ী করছেন। বেঙ্গালুরুর একটি শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট (পেটের রোগ বিশেষজ্ঞ) ডা. লোকেশ এলভি সম্প্রতি এই বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন এবং জানিয়েছেন কেন অনেক সময় সব চেষ্টা সত্ত্বেও মেদ গলতে চায় না।

ওজন কমার পথে অন্তরায় হরমোনের তারতম্য ও অন্তর্নিহিত রোগ ডা. লোকেশ এলভির মতে, বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ডায়েট এবং শারীরচর্চা করার পরেও যদি ওজন না কমে, তবে বুঝতে হবে শরীরের ভেতরে কোনো সুপ্ত অসুস্থতা বা মেটাবলিক ডিসঅর্ডার কাজ করছে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে হাইপোথাইরয়েডিজম বা পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবলিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোমের (পিএমওএস) মতো সমস্যা থাকলে শরীরে দ্রুত মেদ জমতে শুরু করে। এই ধরনের হরমোনজনিত অসুস্থতায় শরীরের বিপাক হার বা মেটাবলিজম মারাত্মকভাবে কমে যায়। ফলে একদিকে যেমন ঘন ঘন খিদে পাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে তেমনই সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও শরীরের জমে থাকা ফ্যাট বা মেদ গলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই ডায়েট শুরু করার আগে হরমোনের কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

মেদ ঝরানোর বিকল্প আধুনিক বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা যাঁদের শরীরের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি এবং কেবল ডায়েট বা সাধারণ ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন কমানো সম্ভব হচ্ছে না, তাঁদের জন্য বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞান কিছু আধুনিক ও বিকল্প পন্থার হদিস দিচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি হলো ‘এন্ডোস্কোপিক স্লিভ গ্যাস্ট্রোপ্লাস্টি’ (ইএসজি)। এই আধুনিক চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার ছাড়াই এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে পাকস্থলীর আকার ছোট করে দেওয়া হয়, যাতে অল্প খাবার খেলেই পেট ভরে যায়। এ ছাড়া পাকস্থলীতে সাময়িকভাবে বিশেষ ‘বেলুন’ প্রবেশ করিয়ে খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতিও এখন বেশ কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের কৃত্রিম বা আধুনিক চিকিৎসার সাহায্য নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হরমোনের ভারসাম্য ঠিক করা এবং সঠিক নিয়মে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করাটাই সুস্থভাবে ওজন কমানোর প্রধান শর্ত।

বিজ্ঞাপন