মার্কিন বিমান হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, শান্তি আলোচনা বাতিলের হুমকি
মার্কিন বিমান হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে বাহরাইন ও কুয়েতে নতুন করে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন যদি তাদের ওপর আক্রমণ অব্যাহত রাখে, তবে চলমান সংঘাত অবসানের শান্তি আলোচনা সম্পূর্ণ স্থগিত করার হুমকি দিয়েছে তেহরান।
হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা ও শান্তি আলোচনায় স্থবিরতা
হরমুজ প্রণালী ইরানের প্রত্যক্ষ তদারকি ছাড়া পুনরায় চালু করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলের সাম্প্রতিক সংঘাতের সূত্রপাত হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক সংস্থা ওমানের কাছাকাছি অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী নৌ-যান চলাচলের রুট সম্প্রসারণের ঘোষণা দিলে তেহরানের সাথে নতুন করে বিরোধ তৈরি হয়। ইরান জোর দিয়ে বলেছে যে, পারস্য উপসাগরের এই সংকীর্ণ প্রবেশপথ কেবল তারাই নিয়ন্ত্রণ করবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রবিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের বর্তমান ব্যবস্থাপনার বাইরে গিয়ে যেকোনো নতুন বা পৃথক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করবে এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করবে।
মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত ও কুয়েত-বাহরাইনের প্রতিক্রিয়া
ইরানের আধাসামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ড বাহরাইন ও কুয়েতে চালানো এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। কুয়েত সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন হামলার পরপরই তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ড্রোন ও দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। তবে সেখানে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, বাহরাইনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের হামলায় তাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি আট তলা আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর অবস্থিত হলেও ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি তার কাছাকাছি ছিল না। বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে একটি বিপজ্জনক উসকানি হিসেবে বর্ণনা করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
চুক্তি লঙ্ঘন নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে ইতিমধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালীর নৌ-যান চলাচল ব্যবস্থা, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে শনিবার পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানি ড্রোনের হামলার পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ড্রোন সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। এই ঘটনা প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরানকে চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করেন। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, এমন এক সময় আসবে যখন যুক্তরাষ্ট্র আর যুক্তিসঙ্গত আচরণ করবে না এবং সামরিকভাবে এই কাজ সম্পূর্ণ করতে বাধ্য হবে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, তেমনটি ঘটলে ইরানের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।