রহমানের সুরে গান, ইমতিয়াজ আলির সিনেমায় সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত বাঙালি গায়িকা নীলাঞ্জনা
বলিউডের প্রখ্যাত পরিচালক ইমতিয়াজ আলির আগামী সিনেমায় অস্কারজয়ী সুরকার এআর রহমানের সুরে গান গাওয়ার সুযোগ পেয়ে নিজের দীর্ঘ লড়াই ও অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলেন বাঙালি গায়িকা নীলাঞ্জনা ঘোষ দস্তিদার।
বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে বাঙালি সঙ্গীতশিল্পীদের জয়যাত্রা দীর্ঘদিনের। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলো নতুন একটি নাম। ইমতিয়াজ আলির নতুন চলচ্চিত্র ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ ছবিতে এআর রহমানের সুরে গান গেয়েছেন কলকাতার মেয়ে নীলাঞ্জনা ঘোষ দস্তিদার। রিয়েলিটি শো-এর মঞ্চ থেকে শুরু করে মুম্বইয়ের প্লেব্যাক দুনিয়ায় নিজের জায়গা পাকা করার এই যাত্রাপথ মোটেও সহজ ছিল না তাঁর জন্য। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিশ্বখ্যাত সুরকার ও পরিচালকের সাথে কাজ করার সেই অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন।
চেন্নাইয়ের স্টুডিওতে রেকর্ডিংয়ের অভিজ্ঞতা নীলাঞ্জনা জানান, এআর রহমানের টিম থেকে যখন তাঁর কাছে প্রথম ফোন আসে, তখন তিনি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। চেন্নাইয়ে রহমানের নিজস্ব স্টুডিও ‘পঞ্চথান রেকর্ড ইন’-এ গান রেকর্ডিংয়ের দিনটির কথা স্মরণ করে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। নীলাঞ্জনার মতে, রহমান সাহেবের সামনে গান গাওয়া যেকোনো শিল্পীর জন্যই এক পরম প্রাপ্তি। রেকর্ডিংয়ের সময় রহমান অত্যন্ত শান্ত থেকে শিল্পীকে তাঁর নিজের মতো গাওয়ার স্বাধীনতা দেন, যা পারফরম্যান্সকে আরও নিখুঁত করতে সাহায্য করে। এই গানটির সুর ও গায়কী শ্রোতাদের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশাবাদী।
ইমতিয়াজ আলির দূরদর্শিতা ও মেলোডি ঘরানার গান গানটির রেকর্ডিং সেশনে সুরকার রহমানের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন খোদ পরিচালক ইমতিয়াজ আলিও। ইমতিয়াজ আলির সিনেমার গান মানেই সেখানে এক অনন্য আবেগের বহিঃপ্রকাশ থাকে। নীলাঞ্জনা বলেন, ইমতিয়াজ ভাই গানের প্রতিটি লাইনের পেছনের দৃশ্যপট এবং চরিত্রটির মানসিক অবস্থা এত সুন্দর করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে গান গাওয়াটা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছিল। ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ চলচ্চিত্রের এই বিশেষ গানটি মূলত একটি মেলোডি প্রধান গান, যা বর্তমান যুগের আধুনিক কোলাহলের মাঝে শ্রোতাদের এক অদ্ভুত মানসিক শান্তি দেবে।
রিয়েলিটি শো থেকে বলিউডের মূল মঞ্চে উত্তরণ কলকাতার এক মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হওয়া নীলাঞ্জনার সঙ্গীতের হাতেখড়ি খুব ছোটবেলাতেই। রিয়েলিটি শো-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নজরে এলেও প্লেব্যাকের দুনিয়ায় সুযোগ পাওয়ার জন্য তাঁকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং অসংখ্য অডিশন দিতে হয়েছে। তিনি মনে করেন, মুম্বইয়ের মতো প্রতিযোগিতাপূর্ণ জায়গায় টিকে থাকতে হলে ধৈর্যের কোনো বিকল্প নেই। রহমানের মতো একজন লিভিং লেজেন্ডের হাত ধরে বলিউডে এই বড় ব্রেক পাওয়ায় তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন। এই সাফল্যের পর আগামী দিনে আরও ভালো কাজ উপহার দেওয়ার জন্য তিনি নিয়মিত রেয়াজ ও প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন।