অ্যাজমা বা হাঁপানির সমস্যা কি ডেকে আনছে একজিমা? ত্বক বিশেষজ্ঞদের চাঞ্চল্যকর তথ্য
অ্যাজমা বা হাঁপানির মতো শ্বাসকষ্টজনিত ক্রনিক সমস্যা ফুসফুসের পাশাপাশি মানুষের ত্বকের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে এবং এটি সরাসরি একজিমা বা সোরিয়াসিসের মতো চর্মরোগকে উস্কে দেয় বলে সতর্ক করেছেন ত্বক বিশেষজ্ঞরা।
যাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে হাঁপানি বা অ্যাজমার সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য নতুন এক সতর্কবার্তা দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। সাধারণত অ্যাজমাকে ফুসফুস এবং শ্বাসনালীর সমস্যা হিসেবেই দেখা হয়। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিক গবেষণা এবং চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অ্যালার্জিক ক্রনিক সমস্যার সাথে ত্বকের অত্যন্ত গভীর ও সরাসরি সংযোগ রয়েছে। ফুসফুসের ভেতরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা কীভাবে মানুষের বাহ্যিক ত্বককে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং একজিমার মতো যন্ত্রণাদায়ক চর্মরোগের জন্ম দেয়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন চিকিৎসকেরা।
অ্যাটোপিক মার্চ এবং দুই রোগের অভ্যন্তরীণ সংযোগ চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অ্যাজমা এবং একজিমার এই পারস্পরিক সম্পর্ককে ‘অ্যাটোপিক মার্চ’ বা ‘অ্যাটোপিক ট্রায়াড’ বলা হয়ে থাকে। ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন কোনো ব্যক্তির শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম অতিরিক্ত মাত্রায় সংবেদনশীল হয়ে ওঠে, তখন তা শ্বাসনালীতে প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন তৈরি করার পাশাপাশি ত্বকের সুরক্ষাকবচকেও দুর্বল করে দেয়। এর ফলে শরীরের ভেতরে যে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, তা ত্বকের ওপর লালচে ভাব, চুলকানি এবং শুষ্কতার সৃষ্টি করে, যা চিকিৎসকের ভাষায় ‘অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস’ বা সাধারণ মানুষের কাছে একজিমা নামে পরিচিত।
ফুসফুসের প্রদাহ যেভাবে ত্বকে ছড়ায় বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে, হাঁপানির টান যখন বাড়ে বা শরীরে কোনো অ্যালার্জেন প্রবেশ করে, তখন রক্তে কিছু বিশেষ ধরনের প্রোটিন এবং সাইটোকাইনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এই উপাদানগুলো রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে ত্বকে পৌঁছায় এবং ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। ফলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে ফেটে যায় এবং বাইরের ধুলোবালি বা জীবাণু সহজেই ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করে সংক্রমণ তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের তীব্র হাঁপানির সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে শীতকালে বা ঋতু পরিবর্তনের সময় একজিমার প্রকোপ বহুগুণ বেড়ে যায়।
প্রতিকার ও চিকিৎসকদের বিশেষ পরামর্শ এই দ্বিমুখী সমস্যা থেকে রেহাই পেতে চর্মরোগ ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত চিকিৎসার প্রয়োজন বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা। প্রথমত, অ্যাজমার সমস্যাকে ইনহেলার বা সঠিক ওষুধের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, কারণ হাঁপানির তীব্রতা কমলে ত্বকের প্রদাহ আপনাআপনি কমে আসে। দ্বিতীয়ত, একজিমার হাত থেকে বাঁচতে ত্বককে সবসময় হাইড্রেটেড বা আর্দ্র রাখতে হবে। এর জন্য ক্ষারহীন সাবান ব্যবহার করা এবং স্নানের পরপরই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি। এছাড়া অতিরিক্ত সুগন্ধিযুক্ত প্রসাধনী এড়িয়ে চলা এবং সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পরা এই ধরনের রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী।