মূল বিষয়বস্তুতে যান
ট্যাগ বাংলা

বিশ্বকাপে এডিন জেকোর ঐতিহাসিক রেকর্ড, চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই তা ভাঙার মুখে

খেলা
বিশ্বকাপে এডিন জেকোর ঐতিহাসিক রেকর্ড, চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই তা ভাঙার মুখে

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক নতুন নজির স্থাপন করলেন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার এবং অধিনায়ক এডিন জেকো। গ্রুপ পর্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং রোমাঞ্চকর ম্যাচে গোল করার সাথে সাথেই তিনি বিশ্বকাপের মঞ্চে গোল করা সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার হিসেবে ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়েছেন। ৪০ বছর পেরিয়েও মাঠের বুকে তাঁর এই অসাধারণ পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে। তবে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, জেকোর এই অনন্য বিশ্বরেকর্ডের স্থায়ীত্ব হতে পারে মাত্র চব্বিশ ঘণ্টা বা একদিন।

কিংবদন্তি রজার মিলার রেকর্ড ভাঙলেন জেকো বিশ্বকাপের মঞ্চে এতদিন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার রেকর্ডটি এককভাবে ধরে রেখেছিলেন ক্যামেরুনের কিংবদন্তি ফুটবলার রজার মিলা। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ৪২ বছর ৩৯ দিন বয়সে গোল করে তিনি এই রেকর্ড গড়েছিলেন। তবে ২০২৬ সালের আধুনিক ফুটবলের গতি এবং তীব্রতার সাথে লড়াই করে এডিন জেকো ৪২ বছর এবং ৮৫ দিন বয়সে গোল করে রজার মিলার সেই ৩২ বছর পুরোনো ঐতিহাসিক রেকর্ডটি ভেঙে দিলেন। বসনিয়ার এই তারকা ফরোয়ার্ডের এমন কীর্তি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা পুনরুত্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রেকর্ডটি দ্রুতই ভেঙে যাওয়ার খতিয়ান ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো প্রসঙ্গ জেকোর এই ঐতিহাসিক আনন্দ অবশ্য খুব বেশিদিন দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। কারণ ঠিক তার পরের দিনই মাঠে নামছে পর্তুগাল। আর পর্তুগালের হয়ে মাঠে নামবেন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। বর্তমানে রোনাল্ডোর বয়স ৪১ বছর পেরিয়ে ৪২-এর কোঠায়। যদি পরের দিনের ম্যাচে রোনাল্ডো কোনো গোল করতে সক্ষম হন, তবে বয়সের সুনির্দিষ্ট হিসাব অনুযায়ী তিনি এডিন জেকোকে টপকে যাবেন। ফলে জেকোর গড়া এই বিশ্বরেকর্ডটি মাত্র একদিনের ব্যবধানেই অন্য কারো নামে স্থানান্তরিত হওয়ার এক বিরল সমীকরণ তৈরি হয়েছে ফুটবল মহলে।

জেকোর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার ও বসনিয়া ফুটবল রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলা যাই হোক না কেন, এডিন জেকোর এই অর্জন বসনিয়ার ফুটবলের জন্য এক বিশাল গর্বের বিষয়। ইউরোপীয় ফুটবলে ম্যানচেস্টার সিটি, ইন্টার মিলান এবং রোমার মতো শীর্ষ ক্লাবে খেলা জেকো দীর্ঘদিন ধরে বসনিয়া জাতীয় দলের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের হয়ে তাঁর এই লড়াকু মানসিকতা এবং বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সর্বোচ্চ স্তরে গোল করার ক্ষমতা তরুণ প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সাবেক ফুটবলাররা।

বিজ্ঞাপন