মূল বিষয়বস্তুতে যান
ট্যাগ বাংলা

সম্পর্কের শুরুতেই অতিরিক্ত উজাড় করে দিচ্ছেন নিজেকে? মনস্তত্ত্ববিদদের পরামর্শে জানুন রাশ টানার উপায়

ডেটিং বা সম্পর্কের প্রাথমিক দিনগুলোতে সঙ্গীকে খুশি করতে গিয়ে নিজের মানসিক সীমানা লঙ্ঘন এবং অতিরিক্ত উজাড় করে দেওয়ার প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কোচ ও মনস্তত্ত্ববিদেরা।

অন্যান্য
সম্পর্কের শুরুতেই অতিরিক্ত উজাড় করে দিচ্ছেন নিজেকে? মনস্তত্ত্ববিদদের পরামর্শে জানুন রাশ টানার উপায়

নতুন কোনো মানুষের সাথে আলাপ বা ডেটিংয়ের শুরুর দিনগুলো সাধারণত অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এবং আবেগঘন হয়ে থাকে। এই সময়ে সঙ্গীর মন জয় করতে বা সম্পর্কের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে অনেকেই নিজের সামর্থ্য ও মানসিক সীমানার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত চিন্তাভাবনা এবং ত্যাগ স্বীকার করা শুরু করেন। মনস্তত্ত্ব ও সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতাকে ‘ওভারগিভিং’ বা অতিরিক্ত উজাড় করে দেওয়া বলা হয়। আপাতদৃষ্টিতে এটিকে গভীর ভালোবাসা মনে হলেও, সম্পর্কের শুরুতেই এমন আচরণ অপর প্রান্তের মানুষের মনে এক ধরনের মানসিক চাপ তৈরি করে এবং নিজের ব্যক্তিত্বকে খাটো করে তোলে। সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের জন্য এই অভ্যাসে রাশ টানা অত্যন্ত জরুরি।

অতিরিক্ত উজাড় করে দেওয়ার মনস্তাত্ত্বিক কারণ সম্পর্ক বিষয়ক আন্তর্জাতিক কোচদের মতে, মানুষের এই অতিরিক্ত দেওয়ার মানসিকতা মূলত অবচেতন মনের এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা থেকে তৈরি হয়। নিজেকে সঙ্গীর কাছে অপরিহার্য প্রমাণ করার তাগিদ, প্রত্যাখ্যানের ভয় কিংবা অতীতে কোনো সম্পর্কে অবহেলার শিকার হওয়ার ইতিহাস মানুষকে এমন আচরণ করতে বাধ্য করে। ডেটিংয়ের শুরুর দিকেই সঙ্গীর সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া, নিজের পছন্দ-অপছন্দকে বিসর্জন দিয়ে সর্বদা সঙ্গীর সময় ও সুবিধার ওপর ভিত্তি করে নিজের রুটিন তৈরি করা এই ওভারগিভিংয়ের প্রধান লক্ষণ। এর ফলে অপর প্রান্তের মানুষটি আপনাকে খুব সহজেই সস্তা বা ‘টেকেন ফর গ্র্যান্টেড’ ভেবে নিতে পারে।

মানসিক সীমানা নির্ধারণের গুরুত্ব বিশেষজ্ঞরা এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য প্রথমেই নিজের চারপাশে একটি সুস্থ মানসিক সীমানা বা ‘বাউন্ডারি’ তৈরি করার পরামর্শ দিচ্ছেন। সম্পর্কের শুরুতে অপর পক্ষকে জানা এবং বোঝার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া উচিত। নিজের ভালো লাগা, খারাপ লাগা এবং নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে আড়াল না করে স্পষ্ট করে তুলে ধরা প্রয়োজন। সঙ্গীকে ভালোবাসার পাশাপাশি নিজের পেশা, বন্ধু-বান্ধব এবং শখের জায়গাগুলোকে আগের মতোই গুরুত্ব দিতে হবে। এটি আপনার আত্মবিশ্বাসকে বজায় রাখতে সাহায্য করবে এবং সঙ্গীর চোখে আপনার আকর্ষণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ার সহজ কৌশল একটি স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক সবসময় দ্বিমুখী যোগাযোগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপনি যতটা আবেগ ও শ্রম সম্পর্কের পেছনে ঢালছেন, অপর পক্ষ থেকেও সমপরিমাণ সাড়া আসছে কি না তা লক্ষ্য করা উচিত। যদি দেখেন কেবল আপনিই সবসময় যোগাযোগের উদ্যোগ নিচ্ছেন বা পরিকল্পনা করছেন, তবে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখুন। সঙ্গীকেও আপনার জন্য কিছু করার বা অপেক্ষা করার সুযোগ দিন। সম্পর্কের প্রাথমিক স্তরেই ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত কল্পনাপ্রসূত না হয়ে বর্তমান মুহূর্তটিকে উপভোগ করা এবং ধীরে ধীরে পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত মজবুত করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

বিজ্ঞাপন