মূল বিষয়বস্তুতে যান
ট্যাগ বাংলা

চেক প্রজাতন্ত্রে মেসির ‘সুপার ফ্যান’, আর্জেন্টিনার সমর্থনে তৈরি করলেন বিশেষ ফ্যান ক্লাব

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার মাঝেই দূর ইউরোপের দেশ চেক প্রজাতন্ত্রে লিওনেল মেসি এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের একনিষ্ঠ এক ভক্তের সন্ধান মিলেছে, যিনি মেসির প্রতি ভালোবাসা থেকে নিজ দেশে একটি বৃহৎ ফ্যান ক্লাব গড়ে তুলেছেন।

খেলা
চেক প্রজাতন্ত্রে মেসির ‘সুপার ফ্যান’, আর্জেন্টিনার সমর্থনে তৈরি করলেন বিশেষ ফ্যান ক্লাব

ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার প্রতি বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের আবেগ ও উন্মাদনা নতুন কিছু নয়। তবে ল্যাটিন আমেরিকার এই দেশটির প্রতি ভালোবাসার টান যখন ইউরোপের কোনো অ-ফুটবলীয় পরাশক্তির নাগরিকের মধ্যে দেখা যায়, তখন তা আলাদাভাবে নজর কাড়ে। চলতি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালীন চেক প্রজাতন্ত্রে লিওনেল মেসির এমনই এক ‘সুপার ফ্যান’ বা পরম ভক্তের খোঁজ পাওয়া গেছে, যাঁর আর্জেন্টিনার প্রতি অন্ধ ভালোবাসা এবং পাগলামি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

মেসিপ্রেমী টমাসের ফুটবল যাত্রা ও অনুপ্রেরণা চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগের বাসিন্দা টমাস ডভোরক পেশায় একজন আইটি প্রকৌশলী হলেও ফুটবলের প্রতি তাঁর টান শৈশব থেকেই। ২০০৬ সালে জার্মানির মাটিতে যখন লিওনেল মেসির বিশ্বকাপে অভিষেক ঘটে, তখন থেকেই তিনি এই আর্জেন্টাইন জাদুকরের খেলার প্রেমে পড়েন। টমাসের মতে, মেসির খেলার মধ্যে যে শৈল্পিকতা এবং সততা রয়েছে, তা বিশ্বের অন্য কোনো ফুটবলারের মধ্যে পাওয়া অসম্ভব। গত দুই দশক ধরে মেসির প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি গোল এবং ক্যারিয়ারের প্রতিটি চড়াই-উতরাই তিনি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর টমাসের এই আবেগ আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।

প্রাগের বুকে আর্জেন্টিনার নিজস্ব সাম্রাজ্য লিওনেল মেসির প্রতি এই অগাধ ভালোবাসা কেবল নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি টমাস। তিনি চেক প্রজাতন্ত্রে ‘চেক আলবিসেলেস্তে’ নামে একটি আনুষ্ঠানিক ফ্যান ক্লাব গঠন করেছেন। শুরুতে মাত্র কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে এই ক্লাব যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচ স্ক্রিনিংয়ের জন্য প্রাগের একটি স্থানীয় ক্যাফে ভাড়া করেছেন তাঁরা। ম্যাচ শুরুর আগে আর্জেন্টিনার জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া থেকে শুরু করে বুয়েনস আইরেসের ঐতিহ্যবাহী নীল-সাদা পতাকায় পুরো ক্যাফে সাজিয়ে তোলেন এই চেক সমর্থকেরা। টমাসের সংগ্রহে মেসির সই করা জার্সি থেকে শুরু করে তাঁর ক্যারিয়ারের বিভিন্ন স্মরণীয় ম্যাচের টিকিট ও স্মারক রয়েছে, যা তিনি তাঁর ফ্যান ক্লাবের কার্যালয়ে সংরক্ষণ করেছেন।

ইউরোপীয় ফুটবল সংস্কৃতির মাঝে ব্যতিক্রমী উদাহরণ চেক প্রজাতন্ত্র বা ইউরোপের দেশগুলোতে সাধারণত ইউরো কাপ বা স্থানীয় ক্লাব ফুটবলের প্রতিই মানুষের আগ্রহ বেশি থাকে। সেখানে ল্যাটিন আমেরিকার একটি দেশের জন্য এমন উন্মাদনা সত্যিই বিরল। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এটি আসলে ফুটবলার হিসেবে লিওনেল মেসির বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তারই প্রমাণ। টমাস জানিয়েছেন, তাঁর জীবনের একমাত্র স্বপ্ন হলো চলমান এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কোনো একটি ম্যাচে গ্যালারিতে বসে মেসিকে সরাসরি সমর্থন করা এবং সম্ভব হলে একবারের জন্য হলেও তাঁর প্রিয় নায়কের হাত স্পর্শ করা। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এমন কোটি কোটি ভক্তের ভালোবাসাই মেসি ও আর্জেন্টিনাকে প্রতি বিশ্বকাপে নতুন করে লড়ার শক্তি জোগায়।

বিজ্ঞাপন