মূল বিষয়বস্তুতে যান
ট্যাগ বাংলা

ভুল প্রমাণিত হলো চিকিৎসকের আশঙ্কা, দীর্ঘ ১৯ বছরের লড়াই পেরিয়ে রহমানের গায়িকা দীপালী

রিয়েলিটি শো ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ থেকে ছিটকে পড়া এবং এক সময় চিকিৎসকের পক্ষ থেকে ‘কণ্ঠস্বর হারিয়ে ফেলার’ আশঙ্কার মুখোমুখি হওয়া দীপালী সহায় অবশেষে দীর্ঘ ১৯ বছর পর ইমতিয়াজ আলির ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ সিনেমায় এআর রহমানের সুরে গান গেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল সাড়া ফেলেছেন।

বিনোদন
ভুল প্রমাণিত হলো চিকিৎসকের আশঙ্কা, দীর্ঘ ১৯ বছরের লড়াই পেরিয়ে রহমানের গায়িকা দীপালী

ইমতিয়াজ আলির ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ সিনেমার ‘তেরে পাস মেঁ’ গানটি মুক্তির পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এই নরম ও মিষ্টি কণ্ঠটি যাঁর, তিনি হলেন গায়িকা দীপালী সহায়। প্রায় ১৯ বছর আগে ২০০৭ সালে রিয়েলিটি শো ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ সিজন ৩-এর ফাইনালিস্ট ছিলেন তিনি। দীর্ঘ এই ১৯ বছরের যাত্রায় তিনি নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ বলিউডের অস্কারজয়ী সুরকার এআর রহমানের গায়িকা হিসেবে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর এই দীর্ঘ লড়াই ও বর্তমান সাফল্য নিয়ে মুখ খুলেছেন।

কণ্ঠস্বর হারানোর আশঙ্কা ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প ইন্ডিয়ান আইডল প্রতিযোগিতার পর দীপালী লাইভ কনসার্ট এবং বিভিন্ন রিয়েলিটি শো উপস্থাপনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অতিরিক্ত চাপের কারণে এক সময় তাঁর কণ্ঠ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে সময় এক চিকিৎসক তাঁকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে তিনি আর কখনোই গাইতে পারবেন না, এমনকি নিয়মিত রেয়াজ করলে স্থায়ীভাবে কথা বলার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলতে পারেন। এই ঘটনা তরুণী দীপালীর মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল এবং তিনি দীর্ঘ সময় গান থেকে দূরে ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি পুনের ‘এফটিআইআই’ থেকে পরিচালনার পাঠ নেন এবং অভিনয়ে যুক্ত হন। তবে সিনেমার জগতে যুক্ত থাকার সুবাদেই প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক বাবা আজমির অনুপ্রেরণায় তিনি আবারও গান গাওয়া শুরু করেন এবং ভোজপুরি ও মৈথিলি লোকসঙ্গীত নিয়ে কাজ শুরু করেন।

যেভাবে এলো রহমানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দীপালী জানান, তাঁর একটি ইন্সটাগ্রাম রিল দেখে স্বয়ং এআর রহমান মুগ্ধ হন। কাকতালীয়ভাবে ৬ জানুয়ারি রহমান এবং দীপালী উভয়েরই জন্মদিনে রহমান তাঁকে ইন্সটাগ্রামে ফলো করেন এবং তাঁর টিম দীপালীর সাথে যোগাযোগ করে চেন্নাইয়ের স্টুডিওতে গান রেকর্ডিংয়ের জন্য আমন্ত্রণ জানায়। গানটি নিয়ে প্রায় ছয় মাস ধরে কাজ চলে এবং অডিও লঞ্চের মাত্র দুই দিন আগে চূড়ান্ত রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়। ইমতিয়াজ আলির নিখুঁত নির্দেশনা এবং রহমানের জাদুকরী সুরের মিশ্রণে তৈরি এই গানটি এখন তরুণ প্রজন্মের মুখে মুখে ঘুরছে।

১৯ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও বর্তমান অনুভূতি সাফল্য প্রসঙ্গে দীপালী বলেন, তিনি এই ১৯ বছরের সময়কালকে ‘স্ট্রাগল’ বা সংগ্রাম হিসেবে দেখতে চান না। তিনি নিজের জীবন নিয়ে সবসময়ই সন্তুষ্ট ছিলেন এবং কোনো অন্ধ প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি মনে করেন, ১৮ বছর বয়সের দীপালীর পক্ষে এই গানের গভীরতা ও আবেগ ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হতো না, তাই সঠিক সময়েই তাঁর জীবনে এই বড় সুযোগটি এসেছে। বর্তমান প্রজন্মের শ্রোতারা যেভাবে মেলোডি ঘরানার এই গানটিকে গ্রহণ করেছেন, তাতে তিনি আপ্লুত এবং ভবিষ্যতের দিনগুলোতেও গুণগত মানসম্পন্ন গান দিয়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে টিকে থাকতে চান।

বিজ্ঞাপন