কবীর বেদি ও প্রতিমা গুপ্তের সম্পর্ক থেকে বিচ্ছেদ, বলিউডের এক সময়ের সবচেয়ে চর্চিত জুটির না জানা গল্প
বলিউড অভিনেতা কবীর বেদি এবং তাঁর প্রথমা স্ত্রী প্রতিমা গুপ্তের সম্পর্ক, মুক্ত প্রেমের ধারণা এবং পরবর্তীকালে তাঁদের বিচ্ছেদের পিছনের নানা অজানা তথ্য নিয়ে বিনোদন জগতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বলিউডের ইতিহাসে যে কয়টি সম্পর্ক তাঁদের সময়ের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে ছিল এবং প্রথাগত চিন্তাভাবনাকে চ্যালেঞ্জ করেছিল, তার মধ্যে অন্যতম অভিনেতা কবীর বেদি এবং ওড়িশি নৃত্যশিল্পী প্রতিমা গুপ্তের সম্পর্ক। ষাটের দশকের শেষে এবং সত্তরের দশকের শুরুতে তাঁদের প্রেম ও দাম্পত্য জীবন তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। প্রথা ভাঙা জীবনযাপন এবং খোলামেলা সম্পর্কের কারণে এই জুটি সবসময়ই সংবাদমাধ্যমের আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকত।
মুক্ত প্রেমের ধারণা এবং প্রথাগত বিয়ে
কবীর বেদি এবং প্রতিমা যখন একে অপরের প্রেমে পড়েন, তখন তাঁরা দুজনেই প্রথাগত সামাজিক নিয়মের বাইরে গিয়ে বাঁচতে ভালোবাসতেন। তাঁরা লিভ-ইন সম্পর্কের মধ্য দিয়ে নিজেদের পথচলা শুরু করেন, যা ওই সময়ে ভারতীয় সমাজে ছিল কল্পনাতীত। পরবর্তীকালে ১৯৭১ সালে তাঁরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পরেও তাঁরা নিজেদের মধ্যে মুক্ত প্রেমের ধারণা বা ওপেন ম্যারেজ বজায় রেখেছিলেন, যেখানে একে অপরের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় কোনো হস্তক্ষেপ করা হতো না। তাঁদের এই জীবনবোধে যেমন গভীর টান ছিল, তেমনই ছিল প্রচ্ছন্ন জটিলতা।
সম্পর্কের টানাপোড়েন ও বিচ্ছেদের কারণ
মুক্ত সম্পর্কের স্বাধীনতা থাকা সত্ত্বেও একসময় তাঁদের দাম্পত্য জীবনে ফাটল ধরতে শুরু করে। কবীর বেদির কর্মজীবনের ব্যস্ততা এবং পরবর্তীতে পারভীন ববির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা প্রতিমার সঙ্গে তাঁর দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। ওড়িশি নৃত্যের প্রতি প্রতিমার অগাধ ভালোবাসা এবং নিজস্ব ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছাও এই দূরত্বে প্রভাব ফেলেছিল। শেষ পর্যন্ত সব জটিলতার অবসান ঘটিয়ে ১৯৭৮ সালে এই তারকা দম্পতির আইনি বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। বিচ্ছেদের পরেও তাঁদের মধ্যে এক ধরনের পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় ছিল।
পরবর্তী জীবন ও ট্র্যাজেডি
বিচ্ছেদের পর প্রতিমা নিজেকে পুরোপুরি ওড়িশি নৃত্যের প্রসারে নিয়োজিত করেন এবং বেঙ্গালুরুর কাছে নৃত্যগ্রাম প্রতিষ্ঠা করেন। কবীর বেদিও আন্তর্জাতিক স্তরে নিজের অভিনয় ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তাঁদের দুই সন্তান পূজা বেদি এবং সিদ্ধার্থ বেদি। ১৯৯৭ সালে ছেলে সিদ্ধার্থের অকাল প্রয়াণ এবং ১৯৯৮ সালে হিমালয়ে তীর্থযাত্রার সময় এক ভয়াবহ ধসে প্রতিমার মৃত্যু বেদি পরিবারে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছিল। কবীর ও প্রতিমার এই বর্ণিল ও বিতর্কিত জীবন অধ্যায় আজও বলিউডের ইতিহাসে এক অনন্য চর্চার বিষয় হয়ে রয়েছে।