যে ৪ অভ্যাসে ভাইরাল হতে পারে আপনার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও, জেনে নিন সাইবার সুরক্ষার উপায়
স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন কিছু অসতর্ক অভ্যাসের সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে সাইবার অপরাধীরা।
বর্তমানে স্মার্টফোনের যুগে ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা বুঝতেও পারেন না ঠিক কীভাবে তাদের গোপন মুহূর্তগুলো অন্যের হাতে পৌঁছে গেল। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন কিছু অসতর্ক অভ্যাস ও সচেতনতার অভাবই মূলত এই ধরণের বিপদের প্রধান কারণ। সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললে এই ঝুঁকি অনেকটাই এড়িয়ে চলা সম্ভব।
যেসব অভ্যাসে বাড়ে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি
সাইবার বিশেষজ্ঞ ও পুলিশি তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, মূলত চারটি অসতর্ক অভ্যাসের কারণে ব্যক্তিগত কনটেন্ট ফাঁসের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। প্রথমত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা মেসেজিং অ্যাপে ভাইরাল কোনো ভিডিও দেখার লোভে অপরিচিত লিংকে ক্লিক করা। এসব লিংকের মাধ্যমে অনেক সময় ফোনে ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার ঢোকানো হয়, যা গ্যালারির ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাক্সেস নিয়ে নেয়। দ্বিতীয়ত, গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোরের বাইরে থেকে যাচাই না করে ভুয়া অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করা এবং সেগুলোকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ক্যামেরা ও গ্যালারির পারমিশন দেওয়া। তৃতীয়ত, সম্পর্কের অবনতি বা বিচ্ছেদের পর সঙ্গীর বিশ্বাসঘাতকতার কারণে অনেক সময় ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া চতুর্থত, বিভিন্ন হোটেল কক্ষ বা ট্রাভেল স্টে-তে লুকানো স্পাই ক্যামেরার ফাঁদে পড়েও অনেকে গোপন মুহূর্তের সুরক্ষা হারান।
সাইবার নিরাপত্তা ও স্মার্টফোন সুরক্ষার কার্যকরী পদক্ষেপ
সাইবার অপরাধ থেকে সুরক্ষায় ফোনে 'পারমিশন হাইজিন' বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। ফোনের সেটিংস থেকে কোন অ্যাপ গ্যালারি, ক্যামেরা বা মাইক্রোফোনের অনুমতি পাচ্ছে, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। সবসময় থার্ডপার্টি উৎসের বদলে অফিশিয়াল স্টোর থেকে অ্যাপ ইন্সটল করা এবং অজানা লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকা উচিত। ক্লাউড ব্যাকআপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) চালু রাখা বাধ্যতামূলক। এর পাশাপাশি হোটেল বা নতুন জায়গায় অবস্থানকালে ঘড়ি, সেন্সর বা চার্জারের মতো সন্দেহজনক জায়গায় লেন্স রয়েছে কি না তা টর্চের আলো ফেলে পরীক্ষা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।