অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা, শিরোপার খুব কাছে মেসি বাহিনী
ফুটবল রোমাঞ্চের সবটুকু রঙ ছড়িয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এক ঘুরে দাঁড়ানোর মহাকাব্য লিখল আর্জেন্টিনা। আটলান্টার সেমিফাইনালে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের জাদুকরী পারফরম্যান্সে ২-১ গোলের নাটকীয় জয় ছিনিয়ে নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
আটলান্টার মাঠ তখন যেন এক চরম স্নায়ুর রণক্ষেত্র। প্রথমার্ধের খেলা দেখে মনে হচ্ছিল, ম্যাচটি হয়তো কেবলই ডিফেন্স আর ফাউলের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে। প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলের ফুটবলাররা মাঠে শারীরিক শক্তি আর ফাউলের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন। দুই দল মিলিয়ে মোট ১৯টি ফাউলের এই অর্ধে আর্জেন্টিনা বেশ কয়েকবার প্রতিপক্ষের সীমানায় হানা দিলেও জালের দেখা মেলেনি কোনো পক্ষেরই। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠের চিত্র বদলে যায় পুরোপুরি।
ইংল্যান্ডের স্বপ্ন এবং আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোর গর্জন
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আকস্মিক ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে গতিময় এক পাল্টা আক্রমণ থেকে অ্যান্থনি গর্ডনের চমৎকার গোলে লিড নেয় ইংল্যান্ড। ৬০ বছরের ফাইনালের খরা কাটানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ইংলিশ সমর্থকেরা। কিন্তু বিশ্বমঞ্চে কোণঠাসা হয়েও বুক চিতিয়ে লড়াই করার চিরচেনা স্বভাব আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের রক্তে। এক গোল হজম করার পর যেন আরও হিংস্র ও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আলবিসেলেস্তেরা। কোচ লিওনেল স্কালোনির চমৎকার কিছু পরিবর্তন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ নিজেদের হাতে এনে দেয়।
এনজো ও লাউতারোর জাদুকরী গোল এবং বাঁধভাঙা উল্লাস
সমর্থকদের উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে ম্যাচের ৮৫ মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। কর্নার থেকে অধিনায়ক লিওনেল মেসির পাস ধরে ২৫ গজ দূর থেকে চোখ ধাঁধানো এক বুলেট গতির শটে সমতা ফেরান মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। পুরো স্টেডিয়াম তখন উল্লাসে ফেটে পড়ে। তবে নাটকের তখনও শেষ অঙ্ক বাকি ছিল। ইনজুরি টাইমের ৯২ মিনিটে যখন ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ক্ষিপ্র গতিতে বক্সে ঢুকে লুইস আলবার্তোর আক্রমণ প্রতিহত হওয়ার পর ফিরতি ক্রসে চোখধাঁধানো এক হেডে জয়সূচক গোলটি করেন লাউতারো মার্তিনেজ। এই অতিমানবীয় জয়ে আগামী ১৯ জুলাই স্বপ্নের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে প্রিয় আলবিসেলেস্তেরা।