২০২৬ সালে সোনার দামে উল্লম্ফন: বিশ্লেষকরা কেন এত আশাবাদী?
সাম্প্রতিক উত্থানের পর আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের পূর্বাভাস নিয়ে ওয়াল স্ট্রিট ফার্মগুলোর মতামত এবং অতীতের সতর্কতা।
২০২৬ সালের শুরুতে সোনার দামে ব্যাপক তেজি ভাব দেখা যাচ্ছে। গত বছরে ৬৩% এবং ২০১৯ সালের শেষ থেকে প্রায় ১৮৪% বৃদ্ধির পর, শুধু জানুয়ারি মাসেই মূল্যবান এই ধাতুটির দাম প্রায় ৬% বেড়েছে। নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (NYMEX) ১৬ জানুয়ারি সোনার ফিউচার চুক্তি প্রতি আউন্স ৪,৫৮৮.৪০ ডলারে শেষ হয়। এই উল্লম্ফন ওয়াল স্ট্রিট বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আশা জাগিয়েছে।
মূল্যবৃদ্ধির পেছনে শক্তিশালী চালক ২০২৬ সালে সোনার দাম আরও বাড়বে বলে বেশিরভাগ বিশ্লেষক পূর্বাভাস দিয়েছেন, যা বাজারের একটি জরিপে দেখা গেছে যে দাম ২৫ সালের শেষ থেকে আরও ১৭% বাড়তে পারে। এই তেজি ভাবের পেছনে বেশ কিছু বৈশ্বিক চাহিদা কাজ করছে:
- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রয়: বিশেষ করে এশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো নিজেদের মুদ্রার মূল্য হ্রাসের বিপরীতে হেজ (Hedge) হিসেবে বিপুল পরিমাণে সোনা কিনছে।
- চীন ও ভারতের চাহিদা: সোনা ধারণ করাকে ঐতিহ্যগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করা চীন ও ভারতে ব্যক্তিগতভাবে সোনার কেনাকাটা অনেক বেড়েছে।
- হেজ ফান্ডের বিনিয়োগ: স্টক, বন্ড এবং রিয়েল এস্টেটে প্রচলিত বিনিয়োগের পাশাপাশি হেজ ফান্ডগুলো তাদের হোল্ডিংয়ে একটি নতুন সম্পদ শ্রেণী হিসাবে সোনা যুক্ত করছে।
- ব্যক্তিগত ক্রেতাদের সুযোগ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ অন্যান্য দেশের ব্যক্তিরা এখন কস্টকো হোলসেল (Costco Wholesale)-এর মতো খুচরা বিক্রেতা থেকেও সোনা কিনতে পারছে।
অতীতেও এমন উত্থান দেখা গেছে: সতর্কতা জরুরি ৪০ বছর ধরে সোনা ও মূল্যবান ধাতু কভার করা একজন অভিজ্ঞ বিশ্লেষকের মতে, ১৯৮০ সালেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তখন মুদ্রাস্ফীতি ছিল তুঙ্গে, তেলের দাম বাড়ছিল এবং ডলারের মূল্য কমছিল। যখন প্রতি আউন্স সোনার দাম ৮৫০ ডলারে পৌঁছায়, তখন ১,০০০ ডলার হবে বলে সবাই আশা করেছিল। তবে, এর পরেই বড় ধরনের পতন হয়। ১৯৮৫ সালের মধ্যে দাম ৬০% এর বেশি কমে ৩৫০ ডলারে নেমে আসে এবং ২০০৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আবার ৮৫০ ডলারে পৌঁছায়নি।
সোনার দামে পতনের সম্ভাব্য ট্রিগার অতীতে দুটি প্রধান কারণ সোনার দামে বড় পতন ঘটিয়েছিল, যা ভবিষ্যতে আবার ঘটতে পারে:
১. মার্জিন রেট বৃদ্ধি: ১৯৮০ সালে পণ্যের এক্সচেঞ্জগুলি ফটকাবাজারি কমাতে সোনার মার্জিন রেট (Margin Rates) তীব্রভাবে বাড়িয়ে দিয়েছিল। ফটকাবাজরা সাধারণত ঋণের মাধ্যমে অবস্থান নেয়, আর সেই ঋণের সুদের হার বাড়লে দ্রুত অবস্থান বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়, যা দাম কমিয়ে দেয়।
২. ফেডারেল রিজার্ভের হস্তক্ষেপ: ১৯৮০ সালে ফেডারেল রিজার্ভ মুদ্রাস্ফীতি কমাতে সুদের হার আকাশছোঁয়া করে দিয়েছিল। ২০১৩ সালে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ খেলাপি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল, তখনও ফেডারেল রিজার্ভ ও সরকার পরিস্থিতি সামাল দেওয়ায় সোনার দাম ৪০% কমে গিয়েছিল।
বর্তমানে ওয়াল স্ট্রিট বিশ্লেষকরা ২০২৬ সালের জন্য আশাবাদী দামের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও, যেকোনো সময় অপ্রত্যাশিত একটি ট্রিগার বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় আনতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে রুপার দামও বেড়েছে (২০২৬ সালে ২৩%), যা একটি লুকানো ঝুঁকি বহন করছে।