অভিষেক শর্মার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা: ভারতীয় সতীর্থদের ‘ঈর্ষা’ নিয়ে মুখ খুললেন সঞ্জু স্যামসন
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই তরুণ ব্যাটার অভিষেক শর্মার প্রতি সতীর্থদের এক সময়কার ‘ঈর্ষা’ এবং তাঁদের চমৎকার রসায়ন নিয়ে মজার তথ্য ফাঁস করেছেন ভারতীয় ওপেনার সঞ্জু স্যামসন।
ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন সেনসেশন অভিষেক শর্মা। ২২ গজে তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিং আর মাঠের বাইরে তাঁর তারকাখ্যাতি নিয়ে এবার অকপট মন্তব্য করেছেন অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটার সঞ্জু স্যামসন। সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডে কনক্লেভে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্যামসন জানান, অভিষেকের দ্রুত উত্থান এবং গ্যালারিতে তাঁর প্রতি সমর্থকদের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা দেখে দলের অনেক সতীর্থই এক সময় খানিকটা ‘ঈর্ষান্বিত’ হতেন।
মাঠ ও মাঠের বাইরে অনন্য বন্ধুত্ব
অভিষেক ও সঞ্জু স্যামসনের মধ্যকার সম্পর্ক কেবল সতীর্থ হিসেবেই সীমাবদ্ধ নয়। কেরল ও পাঞ্জাবের এই দুই ক্রিকেটারের বন্ধুত্ব ভারতীয় ড্রেসিংরুমের অন্যতম আলোচনার বিষয়। স্যামসন বলেন, আমাদের এই কেরালা-পাঞ্জাবি বন্ধুত্ব একদম সহজাত। আমরা যখন ক্রিজে থাকি, তখন একে অপরের খেলাটা খুব সহজে বুঝতে পারি। অভিষেক অত্যন্ত সাহসী এবং মানসিকভাবে খুব ধীরস্থির একজন ক্রিকেটার। ওর এই চরিত্রটাই আমাকে মুগ্ধ করে।
ফায়ার অ্যান্ড ফায়ার কম্বিনেশন
নিজেদের ব্যাটিং স্টাইল নিয়ে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্যামসন মজার একটি উপমা ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, সাধারণত বলা হয় একজন শান্ত থাকলে অন্যজন আক্রমণাত্মক খেলবেন—যাকে বলে আইস অ্যান্ড ফায়ার। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে সেটা নয়। আমরা দুজনেই আগ্নেয়গিরির মতো। আমরা দুজনেই আক্রমণ করতে ভালোবাসি, তাই আমাদের জুটিটা হলো ‘ফায়ার অ্যান্ড ফায়ার’। কখনো ও বোলারদের ওপর চড়াও হয়, কখনো আমি।
অভিষেকের জয়জয়কার ও সতীর্থদের প্রতিক্রিয়া
অভিষেকের গ্যালারি কাঁপানো জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে স্যামসন হাসতে হাসতে বলেন, আগে আমরা যখন মাঠে নামতাম, দেখতাম চারদিকে শুধু অভিষেক অভিষেক ধ্বনি। তখন সতীর্থরা মজা করে বলাবলি করত, সবাই কি কেবল ওকেই দেখছে নাকি? সবাই ওর জন্য এভাবে চিৎকার করছে দেখে অনেকে কিছুটা ঈর্ষাও বোধ করত। তবে এখন ও দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং প্রকৃত অর্থেই একজন সুপারস্টার।
বিশ্বকাপ জয়ের পথে অবিস্মরণীয় অবদান
আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের জয়ে এই ওপেনিং জুটির ছিল বিশাল ভূমিকা। পাওয়ারপ্লেতে ৯৮ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়ে ভারতকে ২৫৫ রানের পাহাড়সম পুঁজিতে পৌঁছে দেন তাঁরা। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ফাইনালে ৯৬ রানের বড় ব্যবধানে কিউইদের হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা নিজেদের করে নেয় টিম ইন্ডিয়া।