চাঁদ জয়ের পথে নাসা: ১ এপ্রিল উৎক্ষেপণ হতে পারে ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস ২’ মিশন
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চার নভোচারীকে নিয়ে চাঁদের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাতে প্রস্তুত নাসা; সব ঠিক থাকলে আগামী ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে আর্টেমিস ২ মিশনের ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হবে।
চাঁদে মানুষের ফেরার স্বপ্নে বড় এক ধাপ এগোলো মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। দুই দিনের নিবিড় 'ফ্লাইট রেডিনেস রিভিউ' বা উড্ডয়ন প্রস্তুতি পর্যালোচনা শেষে সংস্থাটি জানিয়েছে, আর্টেমিস ২ মিশন উৎক্ষেপণের জন্য তাদের দল ও হার্ডওয়্যার এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই অভিযানের সবুজ সংকেত দেন।
প্রযুক্তিগত ত্রুটি কাটিয়ে নতুন লক্ষ্যমাত্রা আর্টেমিস ২ মিশনটি মূলত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাসে উৎক্ষেপণের কথা ছিল। কিন্তু রকেটের ওপরের স্তরের প্রপেল্যান্ট প্রেশারাইজেশন সিস্টেমে হিলিয়াম লিক এবং হাইড্রোজেনের সমস্যার কারণে মিশনটি সাময়িকভাবে পিছিয়ে দেওয়া হয়। মেরামতের জন্য বিশাল এসএলএস রকেটটিকে প্যাড থেকে সরিয়ে ‘ভেহিকল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং’-এ নেওয়া হয়েছিল। সেখানে সফলভাবে সিল প্রতিস্থাপন এবং ব্যাটারি চার্জসহ প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ শেষে এখন এটি আবারও উৎক্ষেপণ প্যাডে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী ১৯ মার্চ রকেটটিকে পুনরায় প্যাড ৩৯বি-তে নিয়ে আসা হতে পারে।
উৎক্ষেপণের সূচি ও অভিযানের ব্যাপ্তি নাসার ঘোষণা অনুযায়ী, ১ এপ্রিল ইস্টার্ন ডেলাইট টাইম সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে উৎক্ষেপণের প্রথম সুযোগ তৈরি হবে। যদি কোনো কারণে সেই দিন সম্ভব না হয়, তবে পরবর্তী ছয় দিনে আরও চারটি সুযোগ থাকবে। প্রায় ১০ দিনের এই মিশনে নভোচারীরা চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো ১৭ মিশনের পর এটিই হবে চাঁদের কাছাকাছি মানুষের প্রথম পৌঁছানোর ঘটনা।
ঐতিহাসিক এই মিশনের অভিযাত্রী দল আর্টেমিস ২ মিশনে নেতৃত্ব দেবেন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান। তার সঙ্গে থাকছেন ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। এই মিশনের মাধ্যমে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো নারী, কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কোনো নাগরিক গভীর মহাকাশে যাত্রা করবেন।
চন্দ্র অভিযানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আর্টেমিস ২ মূলত একটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইট, যা মহাকাশযান ও নভোচারীদের জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করবে। এই মিশনের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই ২০২৭ বা ২০২৮ সালে আর্টেমিস ৩ মিশনের পরিকল্পনা করা হবে, যার মাধ্যমে আবারও চাঁদের বুকে মানুষের পদচিহ্ন পড়বে। নাসার সহযোগী প্রশাসক লোরি গ্লেজ জানিয়েছেন, এটি একটি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ মিশন হলেও মানব সভ্যতার মহাকাশ জয়ের ইতিহাসে এটি এক অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।