ইনস্টাগ্রামে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন বন্ধ করছে মেটা: জেনে নিন ব্যবহারকারীদের করণীয়
জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রাম তাদের ডিরেক্ট মেসেজ বা ডিএম থেকে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সুবিধা সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা আগামী ৮ মে ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
মেটার মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রাম তাদের মেসেজিং সেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চালু হওয়া এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন (E2EE) ফিচারটি আগামী মে মাস থেকে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর ফলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত চ্যাটগুলো আর আগের মতো সুরক্ষিত থাকবে না এবং প্রয়োজনে মেটা কর্তৃপক্ষ সেই মেসেজগুলো অ্যাক্সেস করতে পারবে।
কেন এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে মেটা
মেটা জানিয়েছে যে খুব কম সংখ্যক ব্যবহারকারী ইনস্টাগ্রামে এই এনক্রিপশন ফিচারটি ব্যবহার করছেন। কোম্পানিটির মতে যারা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা চান তারা হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন কারণ সেখানে ডিফল্টভাবেই এই সুবিধা রয়েছে। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা মনে করছেন বিশ্বজুড়ে সরকারি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ক্রমবর্ধমান চাপের কারণেই মেটা এই পিছুটান দিচ্ছে। বিশেষ করে শিশু নিরাপত্তা এবং অবৈধ কনটেন্ট শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এনক্রিপশন বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ ছিল।
ব্যবহারকারীদের ওপর প্রভাব ও ডেটা ব্যাকআপ
আগামী ৮ মে-র পর থেকে ইনস্টাগ্রাম ডিএম-এর সুরক্ষা ব্যবস্থা স্ট্যান্ডার্ড এনক্রিপশন ফরম্যাটে ফিরে যাবে। এর মানে হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই টুল ব্যবহার করে মেটা এখন ক্ষতিকর কন্টেন্ট, স্ক্যাম বা হয়রানি শনাক্ত করতে সক্ষম হবে। যারা বর্তমানে এনক্রিপ্টেড চ্যাট ব্যবহার করছেন তাদের চ্যাটের মিডিয়া ফাইল বা গুরুত্বপূর্ণ মেসেজগুলো নির্দিষ্ট সময়ের আগে ডাউনলোড করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ইনস্টাগ্রাম। অ্যাপের সেটিংস থেকে অ্যাকাউন্টস সেন্টারে গিয়ে ব্যবহারকারীরা তাদের তথ্য ডাউনলোড করতে পারবেন।
নিরাপত্তা বনাম প্রাইভেসি বিতর্ক
এই সিদ্ধান্তের ফলে ডিজিটাল প্রাইভেসি এবং ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে চাইল্ড সেফটি ক্যাম্পেইনাররা একে স্বাগত জানালেও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন এর ফলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। মেটা জানিয়েছে এই পরিবর্তনের মাধ্যমে তারা তাদের প্ল্যাটফর্মকে আরও নিরাপদ করতে চায় এবং আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে তদন্তে সহায়তা করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চায়।