ট্যাগ বাংলা

অ্যাপলের বড় পদক্ষেপ: অডিও এআই স্টার্টআপ 'কিউএআই' অধিগ্রহণ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে এবং 'সিরি'-সহ বিভিন্ন সেবাকে আরও উন্নত করতে অডিও এআই স্টার্টআপ 'কিউএআই' (QAI) কিনে নিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল।

AI
অ্যাপলের বড় পদক্ষেপ: অডিও এআই স্টার্টআপ 'কিউএআই' অধিগ্রহণ

বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল সম্প্রতি অডিও খাতের উদীয়মান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) স্টার্টআপ 'কিউএআই' (QAI) অধিগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আইফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি তাদের ইকোসিস্টেমে এআই-চালিত অডিও অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করতে চাইছে। মূলত গুগল এবং ওপেনএআই-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে পাল্লা দিতে অ্যাপল তাদের নিজস্ব এআই সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে।

অধিগ্রহণের লক্ষ্য ও গুরুত্ব

অ্যাপলের এই অধিগ্রহণের প্রধান লক্ষ্য হলো তাদের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট 'সিরি'-কে আরও শক্তিশালী ও স্বাভাবিক করে তোলা। কিউএআই মূলত রিয়েল-টাইম অডিও প্রসেসিং এবং উন্নত ভয়েস সিন্থেসিস প্রযুক্তির জন্য পরিচিত। এই প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে সিরি আগের চেয়ে আরও দ্রুত এবং মানুষের মতো সাবলীলভাবে ব্যবহারকারীর কমান্ড বুঝতে ও প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম হবে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এটি অ্যাপলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কৌশলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কিউএআই-এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা

স্টার্টআপ কিউএআই এমন একটি অ্যালগরিদম তৈরি করেছে যা অত্যন্ত অল্প ডেটা ব্যবহার করে উচ্চমানের অডিও তৈরি করতে পারে। তাদের প্রযুক্তির মাধ্যমে নয়েজ ক্যানসেলেশন বা শব্দ কমানোর প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভুল করা সম্ভব। এছাড়া অগমেন্টেড রিয়ালিটি (AR) এবং ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (VR) ডিভাইসের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি স্থানিক অডিও বা স্পেশিয়াল অডিওর অভিজ্ঞতাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এটি অ্যাপলের আসন্ন ভিশন প্রো হেডসেটের ক্ষেত্রেও বিশেষ সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এআই বাজারে প্রতিযোগিতার চিত্র

বর্তমানে প্রযুক্তি বিশ্বে জেনারেটিভ এআই নিয়ে এক ধরনের যুদ্ধ চলছে। মাইক্রোসফট এবং গুগল এই খাতে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। অ্যাপল তুলনামূলকভাবে কিছুটা দেরিতে শুরু করলেও এখন তারা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এআই স্টার্টআপগুলো কিনে নিচ্ছে। কিউএআই অধিগ্রহণের ফলে অ্যাপল তাদের ডিভাইসে ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি ডিভাইসের মধ্যেই উন্নত অডিও এআই সেবা প্রদান করতে পারবে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা

এই চুক্তির ফলে অ্যাপল মিউজিক, এয়ারপডস এবং আইফোনের অডিও মানের ব্যাপক উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে যারা প্রফেশনাল অডিও এডিটিং বা কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের সাথে যুক্ত, তাদের জন্য অ্যাপল নতুন কোনো ফিচার নিয়ে আসতে পারে। তবে এই অধিগ্রহণের আর্থিক অংক এখনো গোপন রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মাসগুলোতে অ্যাপলের নতুন সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে এই প্রযুক্তির প্রাথমিক কিছু ঝলক দেখা যেতে পারে।