আজ ‘কিছু না’ দিবস

|

আজকে শীত একটু বেশি! নাকি শুধু আমার কাছেই মনে হচ্ছে। সকালে শরীরটাকে কম্বল থেকে বেরই করতে মন চাচ্ছিল না। কেন যেনো আলসেমিটা একটু বেশিই চেপে ধরেছিল। অ্যালার্মের কর্কশ শব্দ আজ বেশি বিরক্তিকর মনে হচ্ছিল। কিন্তু তাকে উপেক্ষা করার উপায় যে নেই! উঠতেই হল। অফিসে তো যেতেই হবে!

রাস্তায় বেরিয়ে দেখি মিরপুর-আগারগাঁও রোডে যানবাহন বন্ধ। বিরক্তি আরও বেড়ে গেল। কিছু পথ হেটে, তারপর রিকশায় অফিসে পৌঁছরাম হন্তদন্ত হয়ে। শুরু হল ব্যস্ততা। কিন্তু কাজে মন বসছে না! ভোরের সেই আলস্য কেন যেনো কাটছেই না! মনে হচ্ছে, প্রতিদিন কেন কাজ করতে হয়? সপ্তাহে একটা দিন ছুটি পাই। অথচ ব্যাচেলর লাইফে ধোয়া মোছা থেকে শুরু করে সারা সপ্তাহের জমিয়ে রাখা কাজ আর ঝামেলা সেদিনই নিপটাতে হয়। ভাবছিলাম, বছরে একটা দিন কি থাকতে পারে না, যে দিনটিতে কিছুই করা লাগবে না?

আনমনে গুগলে সার্চ করলাম। আসনে ভাসা ফলাফলগুলো দেখে রীতিমত অবাক! ভাবলাম, এ কারণেই কি তবে আজ এই আলসে ভুতের কবলে পড়লাম।

আজ নাকি ‘কিছু না’ দিবস। ইংরেজিতে যাকে বলে হচ্ছে ‘নাথিং ডে’।

জানলাম, আজকের দিনটি তাদের জন্যই যারা সারা বছর কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এই দিনটি মূলত কর্মহীন থাকা, অলস সময় কাটানোর জন্য বরাদ্দ। আজকের দিনে কোথাও যাবো না, কোনো কাজ করবো না, সারাদিন অলস হয়ে পড়ে থাকবো।

‘কিছু না’ নামক এই অদ্ভুত দিনটির যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৩ সালে। দিবসটি উদযাপনে প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন আমেরিকান কলাম লেখক হ্যারল্ড কফিন। জানা গেছে, হ্যারল্ড কফিনের একটি সংগঠন ছিল ‘নাথিং অর্গানাইজেশন’ নামে। তারাই এই দিবসটি উদযাপন শুরু করে প্রথম।

কিছু না করার ধারণা বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য হ্যারল্ড কফিন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এই সংগঠনটি। স্বাভাবিকভাবেই সংগঠনটি কাজের কাজ কিছু করবে তা প্রত্যাশা না করাই ভালো। কিছু করা তো দূরের কথা, এখন পর্যন্ত একটি মিটিংও করতে পারেনি সংগঠনটি।








Leave a reply