জেনে নিন গরমে হৃদরোগ থেকে বাঁচার উপায়

|

প্রচন্ড গরমে নাজেহাল জীবন। যখন তখন সানস্ট্রোকের ভয়। তবে হার্ট অ্যাটাক নিয়ে চিন্তা নেই— এমনটা যাঁরা ভাবেন, তাঁরা ষোলোআনাই ভুল ভাবেন, বলছেন চিকিৎসকরা। বরং এই সময়েই আপনার অজ্ঞাতসারে বাড়তে পারে হৃদরোগ। বিপদের মুখোমুখি দাঁড়াতে হতে পারে যখন তখন।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হাসমুখ রাভাত জানান, ‘‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট কোনও আগাম সঙ্কেত ছাড়াই আসে। গরম কালেও এই রোগ হানা দিতে পারে। হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হতে শুরু করলেই এই কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সম্ভাবনা বাড়ে। শীতকালে সাধারণত এর আক্রমণ বেশি হলেও গরমেও যখন তখন হানা দিতে পারে হৃদরোগ।’’

চিকিৎসকদের মতে মূলত তিনটি কারণে যখন তখন হৃদরোগ হতে পারে। যেমন:

১. কোলেস্টরেল বেড়ে গেলে
২. ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে গেলে
৩. ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে না থাকলে

প্রসঙ্গত, ‘দ্য লানসেট’ নামক আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ম্যাগাজিনে একটি প্রতিবেদনে গবেষকরা দাবি করেছেন, বাড়তে থাকা স্ট্রেসও এবং চাপা উদ্বেগও হৃদরোগের একটি কারণ হয়ে উঠতে পারে।

আর এক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ মুকেশ গোয়েল জানিয়েছেন, ‘‘সমস্ত হার্ট অ্যাটাক কিন্তু কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে পর্যবসিত হয় না। কোনও রোগীর ধমনী ব্লক হয়ে গেলে অক্সিজেনপূর্ণ রক্ত হৃৎপিণ্ডে পৌঁছনো বন্ধ হয়ে যায়। তখনই হয় হার্ট অ্যাটাক। দ্রুত চিকিৎসা শুরু না হলে হৃৎপিণ্ডের সেই অংশটি অকেজো হয়ে যায়। গরমকালে এই ধরণের হৃদরোগ হতে পারে রাতের দিকে, আচমকা। বিপদ এড়াতে জীবনযাপনের বিষয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি।’’

কোনও কোনও ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা বোঝা যায় না। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে প্রথমেই সতর্ক হতে বলছেন চিকিৎসকরা। দুশ্চিন্তার লাগাম টানতে না জানলে বিপদের সম্ভাবনা একশো শতাংশ। গরমের রাতে যত সম্ভব হালকা খাবার খেতে বলছেন চিকিৎসকরা। তবে পুরোটাই নিজের হাতে ছাড়া যাবে না। তবে কিছু কিছু সমস্যা দেখলে সাবধান হোন।

*হজমের সমস্যা এর অন্যতম। বদহজম হলে হার্টের উপর তার প্রভাব পড়ে। সুতরাং সাবধান হোন।
*অতিরিক্ত ঘাম হওয়া হৃদরোগের অন্যতম লক্ষণ। অনেক সময় বিনবিনে ঘাম হয়, এসি-তে থাকলেও গরমের অস্বস্তি কাটে না।
*ঘাম, চোখে-মুখে অন্ধকার দেখা যেমন উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা, তেমনই হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও হতে পারে এটি।
*বুকে-পিঠে ব্যথা, হাতে একটানা কনকনে ব্যথা হওয়াও অনেক সময় হৃদরোগের বার্তাবাহী। একটানা অনেক দিন ধরে চিনচিনে ব্যথা হলেও সাবধান।

এই সব ক্ষেত্রে যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়া যাবে, ততই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সূত্র- আনন্দবাজার।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, খাদ্যাভ্যাসে মাত্র পাঁচটি পরিবর্তন এনে হৃদরোগ ও স্ট্রোক থেকে আমরা নিজেদের রক্ষা করতে পারি।

ব্রিটেনে পুষ্টি ফাউন্ডেশন তাদের নতুন এক রিপোর্টে বলছে, বয়স কম হওয়া সত্ত্বেও এই দুটো কারণে বহু মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।

এক পরিসংখ্যান বলছে, ব্রিটেনে যতো মানুষের অকাল মৃত্যু হয় তার অন্তত চার ভাগের এক ভাগের মৃত্যুর জন্যে দায়ী হৃদরোগ।

স্বাস্থ্য গবেষকরা বলছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব।

পুষ্টি ফাউন্ডেশনের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, মানুষের দেহের অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি অণুজীব মাইক্রোবায়োম যদি সুস্থ থাকে এবং কোমরের আকার যদি খুব বেশি বেড়ে না যায়, পাশাপাশি রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা কম রাখা যায় তাহলেই হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে সামান্য কিছু পরিবর্তন এনেই এসব অর্জন করা সম্ভব।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে খাবার-দাবারের বেলায় কী ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে?

১. বেশি করে আঁশযুক্ত খাবার খান
যেসব খাবারে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ আছে সেসব খাবার খাবেন। এসব খাবারের কারণে শরীরে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়।

কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে সাহায্য করে এই ব্যাকটেরিয়া।

বেশি আঁশ আছে এরকম সবজির মধ্যে রয়েছে শিম ও মটরশুঁটি জাতীয় সবজি, কলাই ও ডাল জাতীয় শস্য এবং ফলমূল।

পুষ্টি বিজ্ঞানীরা বলছেন, আলু এবং শেকড় জাতীয় সবজি খোসাসহ রান্না করলে সেগুলো থেকেও প্রচুর আঁশ পাওয়া যায়।

এছাড়াও তারা হোলগ্রেইন আটার রুটি এবং বাদামী চাল খাবারও পরামর্শ দিয়েছেন।

২. স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা জমাট-বাঁধা চর্বি জাতীয় খাবার কমিয়ে ফেলুন
খাদ্য বিজ্ঞানীরা বলছেন, যেসব খাবারে বেশি স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা জমাট-বাঁধা চর্বি থাকে সেসব খাবার খেলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে বেড়ে যায় হৃদরোগের ঝুঁকিও।

চিজ, দই, লাল মাংস, মাখন, কেক, বিস্কিট ও নারকেল তেলে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে।

অনেকেই খাবারে বাড়তি লবণ নিয়ে অভ্যস্ত। একটু স্বাদ বাড়াতে গিয়ে তারা নিজেকে ঠেলে দেন হৃদরোগ, হাইপারটেনশন ও স্ট্রোকের ঝুঁকিতে। লবণ বেশি খেলে শরীরও কিন্তু সংকেত দেয়। আর সংকেতগুলো সময়মতো ধরতে না পারলে ধেয়ে আসবে আরও বড় বিপদ। তো কীভাবে বুঝবেন শরীরে লবণ বেড়ে গেছে?

ঘন ঘন তৃষ্ণা

পরিমাণমতো পানি পানের পরও পিপাসা কমছে না? শরীরে থাকা বেশি সোডিয়াম তথা লবণটাই আপনার ভেতরকার তরলের ভারসাম্য ঠিক রাখতে পারছে না। এটা পানিশূন্যতারও প্রাথমিক লক্ষণ। এমনটা দেখা দিলে শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ পরীক্ষা করুন।

পেট ফাঁপা

অল্প খাওয়ার পরও পেট ফেঁপে যাচ্ছে বা হাঁসফাঁস লাগছে? একটু পানি খেলে ভালো লাগবে ভেবে গ্লাসে চুমুক দিলেন। কিন্তু দেখা গেলো পেট আরও ভারী হয়ে গেলো। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণই এর জন্য দায়ী হতে পারে।

অনবরত মাথাধরা

আগে করতো না, কিন্তু ইদানীং প্রায়ই মাথাব্যথায় আক্রান্ত হচ্ছেন? অন্য কোনও সমস্যা না থাকলে ধরে নিন শরীরের অতিরিক্ত লবণই চাপ বাড়াচ্ছে মাথায়।

পেশীর অস্বাভাবিকতা

শরীরে পানি পানি ভাব চলে আসা বা মাংশপেশীর অস্বাভাবিক ব্যথার জন্য অতিরিক্ত লবণও দায়ী। শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য ঠিক না থাকলেও ত্বক কুঁচকে আসে বা ফুলে ওঠে। তাই লক্ষ্য রাখুন, বিশেষ কোনও কারণ ছাড়াই মোটা হয়ে যাচ্ছে কিনা বা ত্বক কুঁচকে আসছে কিনা।

তীক্ষ্ম ব্যথা

অতিরিক্ত লবণ হাড়েরও ক্ষতি করে। বিশেষত নারীদের হাড় ক্ষয়ের পেছনে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণই বেশি দায়ী। তাই হাড়ের ক্ষয়জনিত বা বিভিন্ন জয়েন্টে তীক্ষ্ম ব্যথা হলে লবণের পরিমাণটা পরীক্ষা করে নিন।

স্বাদ লাগছে না?

যতই লবণ দিচ্ছেন মনে হচ্ছে আরেকটু দেওয়া উচিৎ? বেশি লবণ খাওয়ার বড় একটা কুফল এটি। এতে করে পরে লবণ পরিমিত মাত্রায় খেলেও মনে হবে খাবারে মোটেও লবণ হয়নি। অর্থাৎ অতিরিক্ত লবণ আপনার স্বাদের অনুভূতিও বদলে দেয়।








Leave a reply