ইসলামের জন্য শেখ হাসিনা সরকার যা করেছে, অন্য কেউ করেনি: তথ্যমন্ত্রী

|

বাংলাদেশে ইসলামের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যে কাজ করেছে, তা অন্য কোনো সরকার করেনি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ যারা ধর্মের লেবাস ধরে ইসলাম ও দেশের ক্ষতি করতে চায়, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করার পর বঙ্গবন্ধু যখন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। যে দেশীয় অপশক্তি স্বাধীনতা চায়নি এবং যে আন্তর্জাতিক শক্তি ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাদের ষড়যন্ত্রে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল।’

মুক্তিযুদ্ধে দেশের হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নিয়েছিল উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যারা স্বাধীনতা চায়নি তারা ইসলামের কথা বলে দেশের লক্ষ লক্ষ নিরীহ মুসলমানকে হত্যা করেছে। মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদের মধ্যে ২৯ লক্ষ বা তার বেশি মানুষ মুসলমান।’

বঙ্গবন্ধুর পূর্বপুরুষেরা বাগদাদ থেকে ধর্ম প্রচারের জন্য এদেশে এসেছিলেন স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন। ইসলামি দেশগুলোর সংস্থা ওআইসির সদস্য হয়েছিলেন এবং দাবি তুলেছিলেন বাংলাদেশকে পাকিস্তানের স্বীকৃতি দিতে হবে। আর তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ইসলামের জন্য অভূতপূর্ব অবদান রেখে চলেছেন।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি অন্য কেউ দেয়নি; ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় অন্য কেউ প্রতিষ্ঠা করেনি; জেলা-উপজেলায় মসজিদ-মক্তব নির্মাণ করে ইমাম, প্রশিক্ষকদের বেতন-ভাতা অন্য কেউ দেয়নি; বঙ্গবন্ধুকন্যা ও তাঁর সরকার দিয়েছে।’

দেশে প্রায় এক লাখ মসজিদভিত্তিক মক্তব প্রতিষ্ঠা; প্রতিটি মক্তবের শিক্ষককে মাসে ৫ হাজার ২০০ টাকা ভাতা দেওয়া; ২০ হাজার দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকে ১২ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা দেওয়া শেখ হাসিনা নিজ উদ্যোগে চালু করেছেন বলে জানান তথ্যমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘সে কারণে বিএনপি-জামায়াত—যারা শুধু নির্বাচন এলে মধুর মধুর কথা বলে, কিন্তু ইসলামের জন্য কোনো কাজ করে না, তাদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে এবং ইসলামের লেবাস ধরে যারা ইসলাম ও দেশের ক্ষতি করতে চায়, তাদের বিষয়ে সদাসতর্ক থাকতে হবে।’








Leave a reply