যুবক এখন কোটিপতি Google-এ চাকরি ছেড়ে খুলেছিলেন সিঙ্গারার দোকান!

|

গুগল-এর মতো সংস্থায় চাকরি। বেসরকারি চাকরি বটে। নিশ্চয়তা নেই। তবে মোটা টাকার বেতন তো ছিল! তাই বা কম কী! আর নিশ্চয়তা কীসেরই বা রয়েছে! তবে এটা ঠিক যে, চাকরি আসলে চাকরিই। সেখানে স্বাধীনতা বলে কিছু নেই। আসে বস-এর ছোট-বড় কথা শোনার ঝক্কি। অনেকেই এসব মানিয়ে নিতে পারেন না। এই যেমন গুগল-এর মতো সংস্থায় চাকরি পেয়েও মন বসাতে পারছিলেন না মুনাফ কপাডিয়া। রোজই ভাবতেন, চাকরিটা ছাড়লে কেমন হয়! কিন্তু চাকরি ছাড়ব বললেই তো আর ছাড়া যায় না। একে তো চাকরির মায়া কাটানো মুশকিল। তার উপর জীবন চলবে কী করে! উপার্জনের অন্য কোনও রাস্তা না খুঁজে তো আর কেউ চাকরি ছাড়তে পারে না! মুনাফ কিন্তু পরিকল্পিতভাবেই গুগল-এর লোভনীয় চাকরি ছেড়ে দিলেন।

গুগল-এ অ্যাকাউন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট পদে ছিলেন তিনি। মুসৌরি, হায়দরাবাদ থেকে মুম্বই। তিন জায়গায় বদলি হয়েছিল তাঁর। এর পরই তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। মুনাফের মা সুস্বাদু পদ রান্না করতে পারেন। মায়ের হাতের রান্না দিয়েই জীবনের প্রথম ব্যবসা শুরু করলেন তিনি। ডেলিভারি কিচেন শুরু করলেন তিনি। অনলাইন অর্ডার নিতে শুরু করলেন। কিন্তু ব্যবসা বাড়ানোর জন্য যে পরিমাণ অর্ডার প্রয়োজন ছিল তা তিনি পাচ্ছিলেন না। ফলে একটা সময় ব্যবসা বন্ধ করার কথা ভাবতে শুরু করেন মুনাফ। ঠিক সেই সময় ফোর্বস ইন্ডিয়া থেকে ফোন কল আসে তাঁর কাছে। তাঁরা মুনাফের ব্যবসা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করার কথা জানান। আর তাতেই মুনাফের জেদ চেপে যায়। তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর মায়ের হাতের রান্নার সুগন্ধ ফোর্বস পর্যন্ত পৌঁছেছে। ব্যবসা তিনি বন্ধ করলেন না।

এর পরের যাত্রাপথ স্বপ্নের মতো। তিনি মু্ম্বইতে একটি সামোসার (সিঙ্গারা) দোকান খুললেন। গরম সিঙ্গারা। সঙ্গে সুস্বাদু চাটনি। তাঁর সেই সিঙ্গারা চেখে দেখতে লোকজন ভিড় করতে শুরু করলেন তাঁর দোকানের সামনে। ব্যস্, ব্যবসা দৌড়তে শুরু করল। মুনাফের কিচেনের রান্নার
স্বাদের প্রশংসা করেছেন ঋষি কাপুর, হৃতিক রোশন, রানি মুখার্জির মতো তারকারাও। শুধু সিঙ্গারাই নয় এখন তাঁর নরগিস কাবাব, ডাব্বা গোস্ত আদির মতো রেসিপি সুপারহিট। আর তাঁর দোকানের মাটন সামোসা খেলে তো আঙুল চাটতে হবে। বছরে এখন প্রায় ৫০ লাখ টাকা উপার্জন মুনাফের। সেইসঙ্গে ভরপুর স্বাধীনতা। মুনাফ এখন নিজেই নিজের বস। 








Leave a reply