সাহেদ হাসপাতালে চিকিৎসক কে বলছেন স্যার, চিপায় পড়লে কেউ চেনে না’

|

এখন বাংলাদেশে একটি আ’লোচিত নাম প্রতারক সাহেদ । করো’না পরীক্ষা না করেই ভূয়া রিপোর্ট দিয়েছে- সেই অ’প’রাধটি এখন তুচ্ছ হয়ে গেছে। যেখানেই হাত দেওয়া যাচ্ছে সেখানেই সাহেদের দু’র্নীতি-অ’পকী’র্তির তথ্য-প্রমাণ বেড়িয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত সাহেদের বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ করেছে দুইশর বেশি মানুষ এবং সবগুলো অ’ভিযোগই জালিয়াতি, প্রতারণা এবং অর্থ আত্মসাতের।

এই মুহুর্তে দু’র্নীতি দমন কমিশনের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে রয়েছে প্রতারক সাহেদ। পদ্মা ব্যাংকের (সাবেক ফারমা’র্স ব্যাংক) টাকা আত্মসাতের মা’মলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে গতকাল হঠাৎ ‘অ’সুস্থ’ হয়ে পড়েন সাহেদ। এরপরে চিকিৎসকরা তাঁকে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যান। পরে জানা গেল যে, পুরো বিষয়টিই ছিল নাট’ক। ত’দন্ত এড়ানোর জন্যে হাসপাতা’লে থাকতে চেয়েছিলেন সাহেদ। কিন্তু তার এই চেষ্টা সফল হয়নি।

হাসপাতা’লে যে চিকিৎসকরা সাহেদের পরীক্ষা করেছিলেন তাঁদের থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে যে, সাহেদ হাসপাতা’লের চিকিৎসকদেরকেও বশীভূত করতে চেয়েছিলেন। তাঁদেরকে দিয়ে অ’সুস্থতার একটি সার্টিফিকেট নেওয়ার চেষ্টাও করেছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, গতকাল তাকে যখন বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হয় তখন সাহেদকে প্রথম যে চিকিৎসক দেখেন তাকে সাহেদ মাস্ক খুলে বলেন যে, ‘আমাকে চিনতে পারেননি? আমি সাহেদ। আমি ট’কশো করেছি। আপনি আমাকে একটু রক্ষা করেন, আমা’র অনেক অ’সুখ।

আমাকে একটু হাসপাতা’লে ভর্তি হওয়ার ব্যবস্থা করে দিন।’ কিন্তু সেই চিকিৎসক সাহেদকে পাত্তা দেননি। তিনি সাহেদকে বলেন যে, ‘আপনি সাহেদ না কে তা তো আমি জানি না। আমি আপনাকে চিনিও না। কিন্তু পত্রিকায় দেখেছি যে আপনি একজন প্রতারক।’

এসময় সাহেদ বলে যে, ‘স্যার, চিপায় পড়লে কেউ চেনে না। আগে আমা’র সঙ্গে কত মানুষজন থাকতো, কতজনকে আমি কতরকম সুবিধা দিয়েছি। প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে আমা’র ওঠাবসা ছিল। আমা’র ছবি নেই কার সঙ্গে? কিন্তু এখন আমি বিপদে পড়েছি। যাদেরকে আমি টাকা পয়সা দিয়েছি, যাদের আমি ফাইফরমাশ খেটেছি, যে সমস্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যা চেয়েছে তাই দিয়েছি, তারা এখন আমাকে চেনে না, তারা আমা’র জন্য কোন দেনদরবার করেনা, তদবিরও করেনা। আপনি শুধু আমাকে হাসপাতা’লে ক’টা দিন থাকার অনুমতি দিন, আমি নাহলে ম’রে যাবো।’

কিন্তু ঐ চিকিৎসক সাহেদকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তবেই দেখা যাবে যে, তার কি অবস্থা। এরপর সাহেদের ইসিজি করা হয়, প্রেসার মাপা হয় এবং ব্লাড সুগ্যারসহ অন্যান্য পরীক্ষা গুলো করে দেখা যায় যে, সাহেদ সম্পূর্ণ সুস্থ।

এরপর চিকিৎসক দুদকের কর্মক’র্তাদের জানিয়ে দেন যে, সাহেদের কোন অ’সুস্থতা নেই এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে কোন বাঁ’ধা নেই। এরপর সাহেদকে আবার দুদকে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, সাহেদের প্রতারণার ফাঁদ অনেকদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। সেখানে করো’না পরীক্ষার ভূয়া রিপোর্ট প্রদান একটি ছোট্ট প্রতারণা মাত্র। এখনো সাহেদের বড়বড় অনেক প্রতারণা দেখার অ’পেক্ষায় থাকতে হবে বাংলাদেশকে।

আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বলছে যে, দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের পর সাহেদকে আবার র‍্যাবের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এই সমস্ত জিজ্ঞাসাবাদে সাহেদের প্রতারণার যে চাঞ্চল্যকর এবং লোমহর্ষক কাহিনী তা অনেকটাই উন্মোচিত হবে বলে আশা করছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।








Leave a reply