মালয়েশিয়ায় ১০ গুণ বেশি ক্ষতিকর করোনাভাইরাসের সন্ধান

|

মালয়েশিয়ার বিজ্ঞানীরা দেশটিতে আরও ১০ গুণ বেশি ক্ষতিকারক করোনাভাইরাসের সন্ধান পেয়েছেন। এই ভাইরাসটি আরও বেশি সংক্রমক।

গতকাল সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটির বিজ্ঞানীরা করোনাভাইরাসের আরও ভয়ঙ্কর রূপ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।

প্রায় আট মাস আগে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ছিলেন দুই কোটির বেশি মানুষ। চীনের উহানে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর তা বিভিন্নভাবে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে ভাইরাসটির গঠনগত পরিবর্তন ঘটতে থাকে। তবে তা চীনে পাওয়া ভাইরাসের চেয়ে খুব একটা আলাদা নয়।

মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ আরও বেশি সংক্রামক ও পরিবর্তনশীল ‘সারস-কোভ-২’ ভাইরাসের অস্তিত্ব পেয়েছেন যা অনেক বেশি ভয়ঙ্কর। এই ভাইরাস চলমান করোনা মহামারিকে আরও দীর্ঘ করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভাইরাসের এমন ক্ষতিকর গঠনগত পরিবর্তন মালয়েশিয়ায় দেখা যায়। ভারত থেকে এক ব্যক্তি মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পর সেখানে তিনি কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থাতেই ৪৫ জনের বেশি মানুষকে সংক্রমিত করেন।

পরীক্ষার সময় আক্রান্তদের অন্তত তিন জনের শরীরে ভয়ঙ্করভাবে পরিবর্তিত কোভিড-১৯ ভাইরাসের নমুনা পাওয়া যায়। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডি৬১৪জি’।

মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক ড. নূর হিশাম আবদুল্লাহর মতে, করোনাভাইরাসের এই গঠনগত পরিবর্তন প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু, এখন তা পরিবর্তিত হয়ে এতোটাই ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে যাচ্ছে যে এর ফলে ভাইরাসের পুনরুত্থান হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিল যে করোনাভাইরাসের গঠনগত পরিবর্তন আরও ভয়ানক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। এটি ভ্যাকসিন উন্নয়নেও বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

ড. নূর হিশাম আবদুল্লাহর এই তথ্য করোনার বিস্তার রোধে সবাইকে আরও বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, মালয়েশিয়া থেকে এই শক্তিশালী ভাইরাস অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ মালয়েশিয়ায় এই ভাইরাসের শক্তিশালী রূপ দেখা গেছে। জনগণের সহায়তা দরকার যাতে আমরা সবাই মিলে ভাইরাসের এই গঠনগত পরিবর্তন আটকে দিতে পারি।’

নতুন এই ভাইরাস মালয়েশিয়ায় কয়েকজনকে আক্রান্ত করেছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়েছে।

ভ্যাকসিন উন্নয়নে বাধা?

করোনাভাইরাসের পরিবর্তিত রূপ ভ্যাকসিন উন্নয়নের পথে বাধা হতে পারে বলে মনে করেন ড. হিশাম আবদুল্লাহ।

তার মতে, আগে পাওয়া ভাইরাসের গতিবিধির ওপর ভিত্তি করে ভ্যাকসিন উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। ভাইরাসের এমন গঠনগত পরিবর্তন সারা বিশ্বে চলমান মানবদেহে ভ্যাকসিন পরীক্ষায় সুফল নাও দিতে পারে।

তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, যে ভ্যাকসিন উন্নয়নের চেষ্টা চলছে তা ভাইরাসের গঠনগত পরিবর্তনের কারণে খুব একটা বাধাগ্রস্ত হবে না।

ভাইরাসের জীবনচক্র সব সময় পরিবর্তিত হতে থাকে উল্লেখ করে তারা বলেন যে এর ফলে ভ্যাকসিন অকার্যকর হয়ে যায় এমন কোনো প্রমাণ নেই।

ভাইরাসের গঠনগত পরিবর্তন ধীর করে দিতে পারলে এবং তা ভয়ঙ্কর হয়ে না উঠলে ভ্যাকসিন দিয়ে সহজেই এর সংক্রমণ রোধ করা যেতে পারে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

যেভাবে করোনাভাইরাসকে রোধ করা যেতে পারে

করোনাভাইরাসের গঠনগত পরিবর্তন রোধ করার জন্যে প্রথমে প্রয়োজন এর বিস্তার রোধ করা। ওধুধ ছাড়াই এর ক্ষতিকর প্রভাব থামিয়ে দেওয়া যেতে পারে। সে জন্যে প্রয়োজন কঠোরভাবে লকডাউন মেনে চলা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই এই বিস্তার রোধ করা সম্ভব।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, করোনার বিস্তার রোধ করা গেলেই ভাইরাসটির গঠনগত পরিবর্তনও রোধ করা সম্ভব।








Leave a reply