কঙ্কাল নির্মিত গির্জা কোথায় আছে জানেন কি?

|

ভ্রমণ পছন্দ করে না এমন মানুষ পৃথিবীতে খুব কমই দেখা যায়। বিশেষ করে শীতকালের মরসুমে সকলেই ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন। সামনেই আসছে ২৫ ডিসেম্বর, বড়দিন। আর কোথাও যাওয়া হোক না হোক কাছে-পিঠের কোনো গির্জাতে গিয়ে প্রার্থনা করে আসেন অনেকেই এই দিনটিতে। নিজের শহর বা অন্য কোনো শহর কিংবা দেশে বেড়াতে গিয়ে অনেক গির্জাই তো ঘুরেছেন, কিন্তু কখনো কি শুনেছেন গির্জাতে রয়েছে মানুষের কঙ্কাল?

অচেনা অজানা জিনিস জানতে দেখতে প্রবল আগ্রহে থাকে সকল মানুষই। আর যদি মানুষের কঙ্কাল দিয়ে তৈরি হয় কোনো গির্জা তাহলে তো আর কথাই নেই। সাগ্রহে সবার আগে কঙ্কাল দিয়ে সাজানো গির্জা দেখতে ছুটবে সব কিছু ফেলে।
যারা ভ্রমন ভালোবাসেন তাঁদের কাছে এমন একটি জায়গা হল কুতনা হোরা। চেক প্রজাতন্ত্রের ছোট্ট একটি শহর এটি। এই শহরটিতে পর্যটকরা যান বিখ্যাত সেডলেক ওসারি বা কঙ্কালের গির্জা দেখতে। গির্জার প্রতিটি জিনিসপত্র তৈরি করা হয়েছে মানুষের মাথার খুলি, কঙ্কাল দিয়ে।

কুতনা হোরার গির্জাটি ৪০-৭০ হাজার মানুষের কঙ্কাল দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। বছরে প্রায় দুই লক্ষ পর্যটক বেড়াতে যান কুতনা হোরা শহরে শুধুমাত্র কঙ্কালের গির্জা দেখতে। গির্জার ভূগর্ভস্থ কক্ষে পিরামিড আকারে সুন্দর ভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে অসংখ্য কঙ্কাল। রয়েছে মানুষের হাড়-কঙ্কাল দিয়ে তৈরি একাধিক আসবাবপত্র। গির্জার গম্বুজের চূড়ায় সোনালি রঙের মাথার খুলি ও হাড়ের নান্দনিক নকশা তৈরি করা আছে। মাথার কঙ্কাল দিয়ে বড় বড় ত্রিভুজ আকৃতির পিলার তৈরি করা হয়েছে।

গির্জার দেওয়ালের একটি কোণে মাথা ও পায়ের হাড় দিয়ে সাজিয়ে বানানো হয়েছে একটি ল্যাম্প। গির্জার ভিতরে যেখানে যিশু খ্রিষ্টের স্তম্ভ রয়েছে তার চারপাশের দেওয়াল ও ছাদ কঙ্কাল দিয়ে সাজানো হয়েছে। দেওয়াল-সহ গির্জার ছাদ সাজাতে ব্যবহার করা হয়েছে হাড়। এই গির্জার মূল আকর্ষণ হল কেন্দ্রে একটি বড় কঙ্কালের ঝাড়বাতি। অন্য আকর্ষণীয় বস্তু হল সোয়র্জনেবার্গের পরিবারের কুলচিহ্ন সেটিও কঙ্কালের তৈরি।

আসলে এটি একটি কবরস্থান। ১২৭৮ সালে বোহেমিয়ার রাজা আটাকোরা ২ হেনরি নামে এক পাদ্রি জেরুজালেম পাঠান তিনিই সেখান থেকে কিছু মাটি সংগ্রহ করে ওই কবরস্থানে ছড়িয়ে দেন। তার পর থেকেই এলাকার মানুষ পুণ্য লাভের আশায় মৃত্যুর পরে ওই স্থানে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তারপর থেকেই ইউরোপ জুড়ে সেডলেক হয়ে ওঠে একটি কাঙ্ক্ষিত সমাধিক্ষেত্র। ১৪০০ সালে ইউরোপে ‘ব্ল্যাক ডেথ’-এর কারণে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়। তাঁদের অনেককেই কুতনা হোরার ওই কবরস্থানে সমাধি দেওয়া হয়।

একসময় সমাধিক্ষেত্রটিতে নতুন করে কাউকে সমাধি করার মতো একটুও জায়গা ফাঁকা থাকে না। তখন সেখানে ‘অস্থি সংরক্ষণাগার’ হিসেবে সেখানে একটি গির্জা নির্মাণ করা হয়। তার পর থেকেই গির্জার ভেতরেই সমাধি দেওয়া হত মৃতদেহগুলিকে। ১৮৭০ সালে ফ্রান্তি অ্যাক রিন্ত নামে একজন কাঠমিস্ত্রি এই হাড়গুলো সাজিয়ে রাখার দায়িত্ব পান। এর পরই ক্রমে গড়ে ওঠে কঙ্কালের গির্জা। কঙ্কাল নির্মিত এই গির্জা দেখতে বর্তমানে এই স্থানে ভিড় জমান বহু পর্যটকরা।








Leave a reply