মেরিন ড্রাইভের দৃশ্যপট বদলে গেছে

|

‘ক্রসফায়ারের’ নির্জন স্পট হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। এতদিন সমতল যে সড়কের পরিচিতি ছিল আতঙ্কের নাম হিসেবে তা এখন সবার কাছে নতুন কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে মেরিন ড্রাইভ সড়ক। ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে পুলিশের চেকপোস্টের নামে রামরাজত্বের খবর এখন মানুষের মুখে মুখে থাকলেও সিনহা হত্যাকান্ডের পর থেকে সেখানে নেই পুলিশের খবরদারী। তবে বিজিবি, এপিবিএন ও সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে নিয়ম মেনে চলছে তল্লাশি কার্যক্রম।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন)-১৬ অধিনায়ক হেদায়েতুল ইসলাম জানিয়েছেন, দীর্ঘ এই সড়কে তাদের ৩টি চেকপোস্ট রয়েছে। এছাড়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৪টি ও সেনাবাহিনীর ২টি চেকপোস্ট রয়েছে। তবে বিজিবির চেকপোস্ট কমবেশি হয় বিভিন্ন সময়ে। এসব চেকপোস্টে মূলত তল্লাশি কাজ চালানো হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই সড়কে তারকা হোটেল রয়েল টিউলিপ ছাড়াও রয়েছে নীলিমা রিসোর্ট, ইনানী পি বল রিসোর্ট, মারমেড হোটেলসহ অনেক কিছু। ইনানী বিচ, হিমছড়ি, পাতুয়ারটেক, মাথাভাঙা, সাবরং ও টেকনাফ সৈকতে বছরজুড়ে পর্যটকদের ভিড় থাকে। বিভিন্ন পয়েন্টে রয়েছে মাছের আড়ত, জেলেদের বসতি। কিন্তু শতাধিক ক্রসফায়ারের ঘটনায় রাতের মেরিন ড্রাইভ সড়কে চলাচলরতদের কাছে রীতিমতো এক মুর্তিমান আতঙ্কের নাম হিসেবে পরিচিতি পায়। মাত্র এক বছরে রাতের নির্জনতাকে ভেঙে এই সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘ক্রসফায়ারে’ ২০৪ জন নিহত হয়। এর মধ্যে টেকনাফ পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ১৫৬ জন মারা যায়। উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে মেরিন ড্রাইভ লোকমুখে পরিচিতি পায় ক্রসফায়ার জোন হিসেবে। তবে ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার পর থেকে পাল্টে গেছে এই সড়কের পুরনো চিত্র। ওই রাতের পর থেকে এই সড়কে নেই কোনো পুলিশি চেকপোস্ট। হিমছড়ি, রেজুখাল ব্রিজ, সোনারপাড়া, শামলাপুর, চৌকিদারপাড়া ও সাবরাং এলাকায় চেকপোস্টে চলছে তল্লাশি কাজ। এর আগে শামলাপুরের আলোচিত চেকপোস্টে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যরা যৌথভাবে চেকপোস্ট তদারকি করলেও সিনহা হত্যাকান্ডের পর থেকে দায়িত্বে নেই পুলিশ সদস্যরা।

হিমছড়ি এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, ক্রসফায়ারের ভয়ে সাধারণ লোকজন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া নির্জন এই সড়কে সন্ধ্যার পর চলাফেরা করতেন না। জরুরি প্রয়োজনে রাস্তায় বের হওয়া অনেককে ক্রসফায়ার মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। এমন বিড়ম্বনায় সাধারণ মানুষ সব সময় আতঙ্কে থাকেন। লামার বাজার এলাকার বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতাও অভিন্ন। টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) পরিদর্শক লিয়াকত হোসেনের নাম ছিল তাদের মুখে মুখে। তাদের অপকীর্তির খবর সবার জানা থাকলেও ভয়ে থাকতেন তারা। তবে সিনহা হত্যাকান্ডের পর মানুষের ভয় অনেকটা কেটে গেছে। সবাই মুখ খুলতে শুরু করেছেন। গণমাধ্যমকর্মী ও গোয়েন্দাদের জানাচ্ছেন পুলিশের অপকর্মের নানাবিধ তথ্য। অপকর্মে জড়িতরা শাস্তি পাবে এমন অভয়বাণী শুনে স্বস্তি পাচ্ছেন।








Leave a reply