ফটোশুট বদলে দেয় মমতা কুলকার্নির জীবন

|

শোবিজ অঙ্গনের শিল্পীদের কাছে বিতর্ক কখনো আশীর্বাদ আবার কখনো অভিশাপ। বিতর্কিত ঘটনার মাধ্যমে আলোচিত হয়ে কেউ ক্যারিয়ার গড়েছেন। আবার কারো ক্যারিয়ার ধ্বংসও হয়েছে। বলিউড অভিনেত্রী মমতা কুলকার্নি এমন একজন তারকা। একটি টপলেস ফটোশুট তার অভিনয় ক্যারিয়ারে পুরো পাল্টে দেয়। রাতারাতি আলোচনায় আসেন এই অভিনেত্রী।

মধ্যবিত্ত মারাঠা পরিবারে জন্ম নেওয়া মমতা কুলকার্নি স্বপ্ন দেখতেন বড় অভিনেত্রী হবেন। কিন্তু লেখাপড়া শেখেননি। ইংরেজিও ঠিকঠাক বলতে পারেন না। এছাড়া বলিউডে তার কোনো জানা শোনাও ছিল না। কিন্তু তারপরও ১৯৯২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তিরাঙ্গা’ সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পান। সিনেমাটিতে তার চরিত্র খুবই স্বল্প সময়ের ছিল। ওতটুকু সময়েই নিজের জাত চিনিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ‘অশান্ত’, ‘আশিক আওয়ারা’, ‘ওয়াক্ত হামারা হ্যায়’ সিনেমায় অভিনয় করেন। সিনেমাগুলো সেই সময়ের উঠতি তারকা অক্ষয় কুমার, সাইফ আলী খান, সুনীল শেঠির সঙ্গে পর্দায় হাজির হন তিনি। বক্স অফিসে সিনেমাগুলো মাঝারি ব্যবসা করে। এতে নায়কদের ক্যারিয়ারে সুবিধা হলেও মমতা বুঝেছিলেন তাকে আরো কঠিন পথ পারি দিতে হবে।

এরই মধ্যে ‘ফিল্মফেয়ার ফেস অব দি ইয়ার’ অ্যাওয়ার্ড পান মমতা। এরপর রাকেশ রোশান, এন চন্দ্র, সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার মতো প্রযোজকরা আমির খান, সালমান খান, গোবিন্দর বিপরীতে তাকে সিনেমায় নেওয়ার জন্য আলোচনা করেন। তারপরও মমতা খুশি ছিলেন না। কারণ সবকিছু অনেক মন্থর গতিতে চলছিল। এই অভিনেত্রী বুঝতে পারছিলেন, যদি তার সিনেমা না চলে তাহলে তাকে ইন্ডাস্ট্রি ছাড়তে হবে এবং তিনি কোনো ভালো চরিত্রের জন্য প্রস্তাবও পাবেন না।

এদিকে ফটোগ্রাফার জায়েস শেঠ একটি স্বনামধন্য ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদের জন্য আবেদনময়ী এবং সাহসী ফটোশুটের পরিকল্পনা করছিলেন। এজন্য সরল কিন্তু আবেদনময়ী চেহারার একজন অভিনেত্রী চাইছিলেন। প্রাথমিকভাবে মাধুরী দীক্ষিত ও জুহি চাওলাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু তারা এ প্রস্তাবে রাজি হননি। পরবর্তী সময়ে মমতা কুলকার্নিকে বেছে নেওয়া হয়।

পকিল্পনা শুনে প্রথমে ভীষণ অবাক হয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। কারণ এই ফটোশুটে তাকে অর্ধনগ্ন হতে হবে। তবে ফটোগ্রাফার মমতাকে আশ্বস্ত করেন, রুচিশীলভাবেই ছবিটি তোলা হবে। কিন্তু তারপরও দ্বিধায় ভুগছিলেন মমতা। ওই সময়ে অভিনেত্রী ডেমি মুরের একই রকম একটি ছবি দেখে রাজি হন। তবে শর্ত দেন— ম্যাগাজিন প্রচ্ছদের ছবিটি তিনি নির্বাচন করবেন।

১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বরে ম্যাগাজিনটি বাজারে আসে। রীতিমতো ঝড় তোলে এটি। দেদারছে বিক্রি হতে থাকে। ২০ রুপি মূ্ল্যের এই ম্যাগাজিন কালো বাজারে ১০০ রুপিতেও বিক্রি হয়।








Leave a reply